নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিতে যাচ্ছে ইউরোপীয় দ্বীপরাষ্ট্র মাল্টা। সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। মাল্টার এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হচ্ছে। সৌদি আরব ও ফ্রান্সের নেতৃত্বে আজ জাতিসংঘে একাধিক দেশ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে গত রোববার ব্রিটেন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং পর্তুগাল ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে গাজা সংঘর্ষের অবসান এবং দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের দিকে এগোতে চাওয়া হচ্ছে।

22 September 2025 | Pic: Collected
মাল্টার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট আবেলা গত মে মাসে প্রথমবার ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন। তবে পরে জাতিসংঘের সম্মেলন স্থগিত হওয়ায় বিষয়টি স্থগিত থাকে। মাল্টা ইতিহাসে ফিলিস্তিনি স্বার্থের প্রতি সমর্থন জানিয়ে এসেছে এবং তারা ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের প্রচেষ্টাকে সবসময় সমর্থন করেছে। মাল্টার ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান এবং ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্ব দেশটিকে এই ধরনের উদ্যোগ নিতে প্রভাবিত করেছে।
প্রাক্তন ফিলিস্তিনি নেতা ইয়াসির আরাফাতের স্ত্রী কয়েক বছর ধরে মাল্টায় বসবাস করেছেন, যা দেশের ফিলিস্তিনি স্বার্থের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত করে। মাল্টার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের স্বীকৃতি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত এবং মাল্টা এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও যোগ করেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা ছাড়া এই শান্তি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার এই পদক্ষেপ কেবল রাজনৈতিক নয়, এটি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনের মানুষরা সংঘর্ষ, অবরোধ এবং মানবিক সংকটে ভুগছে। মাল্টা এবং অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের এই স্বীকৃতি ফিলিস্তিনের জনগণের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে ধরা হচ্ছে।
বিশ্বমঞ্চে এই ধরনের উদ্যোগ ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘর্ষের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার দিকে একটি ইতিবাচক সঙ্কেত হিসেবে গণ্য হবে। পাশাপাশি, এটি অন্যান্য দেশগুলোর জন্যও একটি উদাহরণ স্থাপন করছে যে, আন্তর্জাতিকভাবে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যায় এবং দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব।
মাল্টার এই ঘোষণার মাধ্যমে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়া শুধু কূটনৈতিক নয়, এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। এ পদক্ষেপের ফলে ফিলিস্তিনি জনগণের আশা এবং আস্থার বৃদ্ধি হবে এবং তারা বিশ্বের মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে আরও দৃঢ়ভাবে এগোতে পারবে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া মানে শুধুমাত্র কূটনৈতিক স্বীকৃতি নয়, এটি একটি আন্তর্জাতিক নীতি ও মানবিক উদ্যোগের প্রতিফলন। মাল্টা এবং অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলোর এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি শক্তিশালী বার্তা যাচ্ছে যে, ফিলিস্তিনের স্বার্থের প্রতি সমর্থন থাকা উচিত এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া জরুরি।
ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে মাল্টা বিশ্বমঞ্চে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। একই সাথে, এটি আন্তর্জাতিক কূটনীতির ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে থাকবে এবং ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশের জন্যও উৎসাহব্যঞ্জক উদাহরণ হিসেবে কাজ করবে।




