নিউ ইয়র্কে গত সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস নিহত NYPD অফিসার দিদারুল ইসলাম-এর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়-সদৃশ একটি হোটেলে ইউনূস দিদারুলের পিতা মোহাম্মদ আব্দুর রব, মাতা মিনারা বেগম, দুই ছেলে আইহান ইসলাম ও আজহান ইসলাম, ভাই কামরুল হাসান, বোন নাদিমা বেগম, ভাগ্নে আডিয়ান হাসান ও চাচা আহমেদ জামাল উদ্দিন-সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাতে ইউনূস গভীর শোক প্রকাশ করে দিদারুলের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে তিনি পরিবারের হাতে একটি ক্রেস্ট (সম্মানের প্রতীক) তুলে দিয়েছেন।

23 September 2025 | Pic: Collected
দিদারুল ইসলাম ২০২১ সালে NYPD-তে যোগ দিয়েছিলেন এবং ব্রঙ্কসের ৪৭তম প্রিসিন্টে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এই বছর জুলাই মাসে একটি অফিস বিল্ডিংয়ে হামলার সময় তিনি হামলাকারীকে থামানোর চেষ্টা করার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। পরিবারের কথায়, ৮-১০টি গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন তিনি। সাক্ষাতে ইউনূস বলেন, “খবর পেয়ে আমি হতবাক হয়েছিলাম, কিভাবে এমন হয়নি বোঝা যায়নি।” টিভিতে দেখেছিলেন তিনি দিদারুলের শেষ বিদায়ের সময় হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিলেন।
এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. তাসনিম জারা এই সফরে ইউনূসের সঙ্গেও ছিলেন এবং সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন।তারা পরিবারকে আশ্বস্ত করেছেন যে দিদারুলের মৃত্যুর ঘটনা একান্ত বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনুসন্ধান হবে এবং পরিবারের প্রতি যথাযোগ্য নজর দেওয়া হবে। পরিবার-সদস্যরা দিদারুলকে “দায়িত্বপরায়ণ ও নিবেদিতপ্রাণ অফিসার” হিসেবে বর্ণনা করেছেন যিনি তার কাজের প্রতি সৎ ও দায়িত্বশীল ছিলেন।
এই সাক্ষাতের সময় ইউনুছ বলেছিলেন, “নিউ ইয়র্কে তাদের প্রতি শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ দেখে বোঝা গেল যে দিদারুল শুধু পরিবারের নয়, সমগ্র জনগণের হৃদয়ে একটি জায়গা তৈরি করেছিলেন।” পরিবারের পক্ষ থেকেও আশা প্রকাশ করা হয় যে এই ঘটনা পুনরাবৃত্তি হবে না, এবং দেশে ও বিদেশে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো আরও শক্তিশালী করা হবে।




