ওয়াশিংটন থেকে ঘোষণা এসেছে যে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে উত্তর কোরিয়া ও মিয়ানমারের বিরুদ্ধে, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে অবৈধ অস্ত্র কেনাবেচা ও সামরিক সরঞ্জাম লেনদেনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করার, রায়টার্স, ইরাওডি, মিয়ানমার নাও ও এনকে নিউজ জানিয়েছে যে ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে যুক্তরাষ্ট্র এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে এবং এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে পাঁচ জন ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে, নিষিদ্ধ তালিকায় আছে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনভিত্তিক Royal Shune Lei Company Limited,

26 September 2025 | Pic: Collected
যার প্রধান নির্বাহী Tin Myo Aung, পরিচালক Aung Ko Ko Oo এবং কর্মচারী Kyaw Thu Myo Myint, এছাড়া উত্তর কোরিয়ার KOMID প্রতিষ্ঠানের বেইজিং প্রতিনিধি Kim Yong Ju এবং উত্তর কোরিয়ার RGB গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত Nam Chol Ung নামের আরেকজনকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বলছে এই নেটওয়ার্ক গোপনে মিয়ানমার সেনা সরকারকে উত্তর কোরিয়ার তৈরি বোমা, বোমা নির্দেশনা যন্ত্র, নজরদারি সরঞ্জামসহ বিভিন্ন সামরিক উপকরণ সরবরাহ করছিল, Royal Shune Lei কোম্পানির কর্মকর্তারা ২০২২ সাল থেকে চীনে KOMID প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে এসব অস্ত্র আনার পরিকল্পনা করে, এতে সরাসরি জাতিসংঘের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘিত হয়েছে,
যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক নীতিনির্ধারক John K. Hurley বলেছেন উত্তর কোরিয়ার অবৈধ অস্ত্র কর্মসূচি শুধু আমেরিকার জন্য নয় বরং পুরো বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি, নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা অস্ত্র সংগ্রহে সমস্যায় পড়বে এবং উত্তর কোরিয়ার সামরিক বাজেটও ক্ষতিগ্রস্ত হবে কারণ অবৈধ লেনদেন থেকে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাবে, বিশ্লেষকরা মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ গোপন অস্ত্র বাণিজ্যের নেটওয়ার্কে বড় আঘাত হানবে তবে সফল হতে হলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো ও বিশেষ করে চীনের সহযোগিতা জরুরি হবে,
উল্লেখ্য ২০২১ সালে গণতান্ত্রিক সরকার উৎখাতের পর থেকে মিয়ানমার ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার মুখে আছে এবং সামরিক শাসক Min Aung Hlaing আন্তর্জাতিক মহলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে বহুবার অভিযুক্ত হয়েছেন, অন্যদিকে উত্তর কোরিয়া বহু বছর ধরে পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির জন্য নিষেধাজ্ঞার কবলে থেকেও গোপন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অস্ত্র বিক্রি করে আসছে, এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে মিয়ানমারের সামরিক বিমান হামলা ও আর্টিলারি আক্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের জোগান কঠিন হয়ে যাবে এবং উত্তর কোরিয়ার অবৈধ অস্ত্র প্রকল্পে বড় ধাক্কা আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।




