পাকিস্তানে অনলাইন গেম পাবজি (PUBG) খেলার আসক্তি থেকে এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল। মাত্র ১৮ বছরের এক তরুণ গেম খেলতে বাধা দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে নিজের পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। ঘটনার পর দীর্ঘ তদন্ত ও আদালতের শুনানি শেষে লাহোরের একটি সন্ত্রাস দমন আদালত সেই তরুণকে মোট ১০০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, এমন জঘন্য অপরাধের কোনো ক্ষমা নেই।

26 September 2025 | Pic: Collected
২০২২ সালে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি গোটা পাকিস্তানকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তরুণের মা, বোন ও দুই ভাই। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, ওই দিন রাতে পাবজি খেলতে বসে সে উচ্চস্বরে কথা বলছিল। মা বারবার তাকে গেম বন্ধ করতে বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সে প্রথমে মাকে গুলি করে। এরপর একে একে বোন ও দুই ভাইকে হত্যা করে। ঘটনার পর প্রতিবেশীরা গোলাগুলির শব্দ শুনে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে এবং তরুণকে গ্রেপ্তার করে। পাকিস্তানের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও সাধারণ মানুষ এ ঘটনার পর অনলাইন গেম নিয়ে কড়া অবস্থান নেওয়ার দাবি তোলে। অনেকেই বলেন, তরুণদের মধ্যে পাবজি ও অন্যান্য সহিংস গেম নেশার মতো ছড়িয়ে পড়ছে, যা মানসিক ভারসাম্য নষ্ট করছে এবং পারিবারিক সম্পর্ক ভেঙে দিচ্ছে।
আদালতের রায়ে বলা হয়, এই সাজা ভবিষ্যতে এমন ভয়াবহ অপরাধের বিরুদ্ধে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তরুণের আইনজীবী যদিও সাজা কমানোর আবেদন করেন, কিন্তু বিচারক বলেন—‘যে সন্তান নিজের মা ও ভাইবোনদের হত্যা করতে পারে, সে সমাজের জন্য হুমকি।’ রায়ের পর পাকিস্তানে আবারও অনলাইন গেমস নিয়ন্ত্রণে কঠোর দাবি উঠেছে। শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকরা সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, তরুণদের সঠিক পথে আনার জন্য গেম আসক্তির বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি। একদিকে প্রযুক্তি ও বিনোদন আধুনিক প্রজন্মকে আকৃষ্ট করছে, অন্যদিকে নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবহার ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনছে। এই রায় তাই শুধু একটি পরিবারের নয়, গোটা সমাজের জন্য সতর্কবার্তা হয়ে এসেছে।




