নিউ ইয়র্ক সিটির ব্যস্ত রাস্তায় শুক্রবার ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে; ওইদিন বিকেলে আওয়ামী লীগের এক কর্মীকে প্রকাশ্যে মারধরের অভিযোগে একজন তরুণকে আটক করেছে নিউ ইয়র্ক পুলিশ (এনওয়াইপিডি)। ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজে স্পষ্টভাবে দেখা যায়, সাদা শার্ট, নেভি ব্লু ক্যাপ ও কালো প্যান্ট পরিহিত এক তরুণের সঙ্গে হলুদ পাঞ্জাবি ও সাদা পায়জামা পরা আওয়ামী লীগ কর্মীর তর্কাতর্কি চলছে। তর্কের এক পর্যায়ে হঠাৎ করে তরুণ ওই আওয়ামী লীগ কর্মীর মুখে ঘুষি মারেন। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, এবং আওয়ামী লীগ কর্মীও পাল্টা আঘাত করতে চান। কিন্তু তরুণ একের পর এক ঘুষি মারতে থাকেন, ফলে ঘটনাস্থলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।

27 September 2025 | Pic: Collected
ঠিক সেই সময় কর্তব্যরত এনওয়াইপিডির একজন সদস্য দ্রুত এগিয়ে এসে হামলাকারী তরুণকে মাটিতে ফেলে দেন এবং নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ সদস্যরা আওয়ামী লীগ কর্মীর কাগজপত্র পরীক্ষা করছেন ও তার সঙ্গে আলাপ করছেন, অন্যদিকে আটক তরুণকে জিপ টাই দিয়ে হাত বেঁধে নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। ফুটেজের অন্য অংশে দেখা যায়, তিনজন এনওয়াইপিডি সদস্য আটক তরুণকে ঘিরে রেখেছেন এবং মাঝে মাঝে তার সঙ্গে কথা বলছেন। পরবর্তী অংশে পোশাকধারী দুই পুলিশ সদস্যকে দেখা যায়, তারা ওই তরুণকে হাত বাঁধা অবস্থায় গাড়ির দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে বড় ধরনের সংঘর্ষ বা প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে, অনেকে এটিকে প্রবাসে রাজনৈতিক মতবিরোধের প্রতিফলন বলে মন্তব্য করছেন। আওয়ামী লীগ সমর্থকরা এ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন এবং আইনগত ব্যবস্থার দাবি তুলেছেন, অন্যদিকে বিরোধী পক্ষ বলছে, প্রবাসেও রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মারামারি বা সহিংসতা প্রমাণ করে যে দেশীয় রাজনীতির অস্থিরতা বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রবাসী বাংলাদেশি মহলে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, এসব ঘটনায় সাধারণ বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে। বাংলাদেশ কনস্যুলেট ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করছে এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রবাসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও সহিংসতায় রূপ নিলে তা শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নয়, প্রবাসী সমাজের ভাবমূর্তির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, আটক তরুণ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এবং ঘটনার পর থেকে তাকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, তবে তিনি এখনো কোনো স্পষ্ট বক্তব্য দেননি।
এ ঘটনার ফলে নিউ ইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভিডিও প্রমাণ হাতে থাকায় তরুণের বিরুদ্ধে আক্রমণ, জনসমক্ষে মারামারি ও শান্তিভঙ্গের অভিযোগ আনা হতে পারে, তবে মামলার অগ্রগতি নির্ভর করবে আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর। এদিকে, সাধারণ প্রবাসী বাংলাদেশিরা বলছেন, রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু তা যেন বিদেশের মাটিতে সংঘর্ষে না গড়ায়। তারা প্রত্যাশা করছেন, কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দেবে এবং প্রবাসে বসবাসরত সবাইকে নিরাপদ রাখবে। ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করল, বাংলাদেশের রাজনীতি কেবল দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে প্রবাসেও তার প্রভাব পড়ছে, যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে প্রবাসী মহলে।




