যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র দপ্তর ঘোষণা দিয়েছে যে তারা কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রোর ভিসা বাতিল করেছে, কারণ তিনি নিউ ইয়র্কে প্রো-প্যালেস্টাইনি বিক্ষোভে অংশ নেন এবং স্থানীয়ভাবে বক্তব্য দেন যা “লঙ্ঘনমূলক ও উত্তেজক” হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।রাষ্ট্রদপ্তর বলেছে, পেট্রো যে ভাষণ দিয়েছেন — যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্যদের ট্রম্পের আদেশ অবজ্ঞা করতে বলা এবং গাজায় “গণহত্যা” অভিযোগ তুলে ধরা — তা আন্তর্জাতিক নীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিয়মের দৃষ্টিতে অগ্রহণযোগ্য।

28 September 2025 | Pic: Collected
পেট্রো ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য, সেই সুযোগে তিনি জাতিসংঘ সদরদফতরের কাছাকাছি একটি বিক্ষোভে অংশ নেন এবং ভাষণ দেন; এই ভাষণেই তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কঠোর সমালোচনা করেন এবং আন্তর্জাতিক ন্যায়ের দাবিতে বিরোধিতার সুর ধরেন। পেট্রো ভিসা বাতিলের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “আমি এখন আর যুক্তরাষ্ট্রে যেতে ভিসা নেই — কিন্তু আমি দুঃখিত না। কারণ আমি শুধু কলম্বিয়ার নাগরিক নই, আমি ইউরোপীয় নাগরিকও — এবং আমি নিজেকে বিশ্বের একটি স্বাধীন মানুষ মনে করি।” তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযোগ করেছেন যে এটি আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক প্রথা লঙ্ঘন করছে।
কলম্বিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও স্বরবাহী উত্তরে বলেছে, ভিসা নীতি কূটনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যায় না এবং এটি জাতিসংঘের “মৌলিক স্বাধীন মতপ্রকাশ ও অংশগ্রহণ” নীতির বিরুদ্ধে বলে মন্তব্য করেছে। প্যারিস অধ্যায় হিসেবে মিডিয়াতে দেখা যাচ্ছে, এই ঘটনা ভুটানোর মতো একটি কূটনৈতিক উত্তেজনার সূচনা করেছে, বিশেষ করে যেখানে পেট্রো–যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ইতোমধ্যেই বেশ উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। পেট্রো ২০২৪ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন এবং তাদের প্রতি কঠোর সমালোচনা করেছিলেন — এ প্রসঙ্গে এই ভিসা বাতিল দাবি বিশেষ রাজনৈতিক যুক্তিসহ প্রভাব ফেলেছে।
এই সিদ্ধান্ত একাধিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে — প্রথমত, একটি রাষ্ট্রপ্রধানের ভিসা বাতিল করা কূটনৈতিক মর্যাদা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিরল এবং গুরুতর পদক্ষেপ। দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্র ও কলম্বিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবস্থা আরও জটিল হতে পারে। তৃতীয়ত, এটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে যেখানে অন্যান্য দেশ ও সমালোচকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র এই ধরণের পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক আইনের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট যে বলা মাত্রেই অনেক দেশের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতি প্রভাবিত হয়, এবং মতপ্রকাশ ও কূটনৈতিক স্বাধীনতার সীমা কোথায় — তা নিয়ে সারা বিশ্বে বিতর্ক আবার জেগে উঠতে পারে।



