ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা এবং সংবিধানের ষষ্ঠ তফশিল অনুযায়ী আদিবাসীদের রক্ষাকবচের দাবিতে আন্দোলনরত পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনাম ওয়াংচুককে শুক্রবার গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, লাদাখের বিভিন্ন এলাকায় কারফিউ জারি করা হয়েছে এবং রাজধানী লেহ শহরে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।
30 September 2025 | Pic: Collected
গত বুধবার যুবসমাজের নেতৃত্বে চলা এই আন্দোলন সহিংস হয়ে ওঠে, যার ফলে চার জনের মৃত্যু হয় এবং ৫০ জনের বেশি মানুষ আহত হন, যাদের মধ্যে একটি বড় অংশ পুলিশকর্মী। এই আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছে ‘লাদাখ অ্যাপেক্স বডি’ এবং ‘কারগিল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স’ নামে দুটি সংগঠন। তবে আন্দোলনের মুখ্য চরিত্র হিসেবে সোনাম ওয়াংচুককে দেখা গেছে, যিনি ‘থ্রি ইডিয়েটস’ সিনেমার র্যাঞ্চো চরিত্রের অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে পরিচিত।
লাদাখে ধর্মীয় বিভাজনও রয়েছে। কারগিল অঞ্চল মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ, আর লাদাখে বৌদ্ধধর্মাবলম্বীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। আন্দোলনকারীরা পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা দাবির পাশাপাশি সংবিধানের ষষ্ঠ তফশিল অনুযায়ী আদিবাসীদের অধিকার, পরিচয় ও উন্নয়ন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
লাদাখ অ্যাপেক্স বডি ১০ই সেপ্টেম্বর থেকে এই দাবিতে অনশন শুরু করে। সোনাম ওয়াংচুকও এই অনশনকে সমর্থন করেন। তবে বুধবারের সহিংসতার পরে তিনি বিবিসিকে জানান, অনশন প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সমাধান করার চেষ্টা চলছে।
এই ঘটনায় সরকারের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পদক্ষেপ নিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই আন্দোলন শুধু লাদাখের রাজনৈতিক সমস্যা নয়, এটি দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
সহিংসতার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য পুলিশের পাশাপাশি সিভিল প্রশাসন কার্যক্রম শুরু করেছে। স্থানীয় মানুষদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছে এবং ব্যস্ত এলাকা থেকে সাধারণ মানুষকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আন্দোলনের ফলে স্কুল, কলেজ এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
লাদাখ আন্দোলনের বিষয়টি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও গুরুত্ব পেয়েছে। অনেকে এই আন্দোলনকে আদিবাসী অধিকার ও সংবিধানগত মর্যাদার প্রশ্ন হিসেবে দেখছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা ছাড়া সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।



