জাতিসংঘ সদর দপ্তরে “রোহিঙ্গা মুসলিম ও মিয়ানমারের অন্যান্য সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি” শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সাত দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন, যেখানে তিনি বলছেন যে এই সমস্যা শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো বিশ্ব মিটিয়ে দিতে হবে। তিনি বলেন, আট বছর পার হলেও রোহিঙ্গাদের দুর্দশা অব্যাহত রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত দুর্বল হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, এই সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তাই সমাধানও যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ বা অন্য দেশ থেকে নয় — মূলত মিয়ানমারের গৃহেই করতে হবে।
ড. ইউনূস বাংলাদেশকে যে বোঝাপড়া ও চ্যালেঞ্জে পড়ে আছে, সে কথা তুলে ধরে বলেছেন, এত দীর্ঘ সময়ের বোঝা বহন করতে করতে বাংলাদেশের আর্থিক, সামাজিক ও পরিবেশগত পরিমাণিক ক্ষতি বেশ বড়। সীমান্ত দিয়ে মাদকের প্রবাহসহ অপরাধ কার্যক্রম বেড়েছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সীমিত সুযোগ ও অবকাঠামোর কারণে রোহিঙ্গাদের অভ্যন্তরীণ কর্মসংস্থান দেওয়া সম্ভব নয়।
1 Oct 2025 | Pic: Collected
তার উপস্থাপিত সাত দফার প্রস্তাববিশেষ হলো:
১. নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে একটি বাস্তব রোডম্যাপ তৈরি ও রাখাইন এলাকায় স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।
২. মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মি–এর ওপর কার্যকর চাপ প্রয়োগ করা, যাতে তারা রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা বন্ধ করে এবং তাদের দেশে ফেরানো শুরু করে।
৩. রাখাইন অঞ্চলে আন্তর্জাতিক সমর্থন ও পর্যবেক্ষণ জোরদার করা, এবং আন্তর্জাতিক বেসামরিক উপস্থিতি রাখতে হবে।
৪. রোহিঙ্গাদের রাখাইন সমাজ ও প্রশাসনে টেকসই অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার জন্য আস্থা গড়া।
৫. যৌথ প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা (Joint Response Plan)–এ দাতারা কম না করে পূর্ণ অর্থায়নে অংশগ্রহণ করবে।
৬. জবাবদিহি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে, যাতে যারা অন্যায় করেছে তাদের দায়বদ্ধ করা যায়।
৭. মাদক অর্থনীতি ভাঙ্গা ও সীমান্ত অপরাধ দমন করা — এই দুইটি বিষয় সমন্বিতভাবে মোকাবিলা করতে হবে।
উল্লেখ্য, ড. ইউনূস বলেন, রোহিঙ্গাদের বাড়ি ফেরানোর জন্য আর সময় নষ্ট করা যাবে না, বিশ্বের সবাইকে মিলে কাজ করতে হবে। তিনি একবার জানান, “বিশ্ব আর রোহিঙ্গাদের অপেক্ষায় রাখতে পারে না” — তাই আজই শুরু করতে হবে।
তাছাড়া, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিনিধিরা এবং জাতিসংঘের সদস্য সংস্থা ড. ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। যেমন, তিনি ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল ও ইউএনএইচসিআর–এর হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডির সঙ্গে আলোচনা করেছেন। বৈঠকে বিশেষভাবে উঠেছে তহবিল হ্রাস, রোহিঙ্গা শিশু ও শিক্ষাসেবায় প্রভাব এবং প্রত্যাবাসনের চ্যালেঞ্জ।



