যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর একটি নির্বাহী আদেশ (Executive Order) জারি করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে যে কাতারের সীমান্ত, সার্বভৌমতা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর যে কোনো সশস্ত্র আক্রমণ ঘটলে, সেটিকে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে গণ্য করা হবে এবং প্রয়োজনে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আদেশে আরও বলা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার পুরনো সহযোগী, বহু ক্ষেত্রেই কাতার মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেছে, এবং এই অস্তিত্বকে সম্মান জানাতে ভবিষ্যতে কাতারকে রক্ষা করা হবে।
2 Oct 2025 | Pic: Collected
এই সিদ্ধান্তটি আসে সেপ্টেম্বর ৯ তারিখে দোহায় ইসরায়েলের বিমান হামলার পর, যেটিতে হামাসের কিছু নেতা ও কিছু কাতারি নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়। ইসরায়েল ওই হামলাটি হামাসের বিরুদ্ধে গাজার যুদ্ধবিরতির পরিকল্পনা আলোচনায় অংশ নেওয়ার সময় চালায়, যা কাতার ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া জাগিয়েছিল। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পরে দোহায় কাতারকে দুঃখপ্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে — “যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো সশস্ত্র আক্রমণকে কাতার ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের স্বার্থহানির ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করবে” এবং “প্রয়োজনে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেবে — কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও অপরিহার্য হলে সামরিক।”আদেশে আরও নির্দেশ আছে যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা দপ্তর কাতারের সঙ্গে যৌথ পরিকল্পনা বজায় রাখবে যাতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেওয়া যায়।
কিন্তু এই নতুন গ্যারান্টির কার্যকর বাস্তবতা কতটা সেটা এখনই প্রশ্নবিদ্ধ। কারণ সাধারণভাবে, যুক্তরাষ্ট্রে সেজন্য একটি চুক্তি (treaty) অনুমোদনের জন্য সেনেটের সমর্থন প্রয়োজন, কিন্তু এই নির্দেশ নির্বাহী আদেশের ভিত্তিতে জারি করা হয়েছে — যার বৈধতা পরবর্তী সময়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা এমন এক প্রতিশ্রুতি যা প্রেসিডেন্ট পরিবর্তন হলে বাতিল করা যেতে পারে।
কাতার প্রশাসন এই আদেশকে স্বাগত জানিয়েছে এবং বলেছে যে এটি দুই দেশের সুরক্ষা ও কৌশলগত অংশীদারিত্বকে মজবুত করবে। যদিও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কিছু সমালোচনা হয়েছে — কেউ বলছেন যে এটি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিতে পারে; কেউ বলছেন যে এটি একপেশে গ্যারান্টি, যা অন্য দেশগুলোর প্রতিযোগিতা বাড়াতে পারে।
এই আদেশটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ও প্রতিরক্ষা নীতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সংকেত পাঠায় — যে দেশগুলোকেও যুক্তরাষ্ট্র বিশেষভাবে রক্ষা করতে পারে যদি তাদের নিরাপত্তার ওপর আঘাত ঘটে। তবে বাস্তব ভূমিকায় এটি কতটা কার্যকর হবে ও আইনি বাধ্যবাধকতা কতটা থাকবে, তা সময়ই বলে দেবে।



