মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার রাজনীতিতে উত্তেজনা বেড়েই চলেছে — বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান শুরু করার পরিকল্পনায় রয়েছে, লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ভেনেজুয়েলার মাদুরো প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মাদক চক্র চিন্তা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও গ্রাহ্য সূত্রগুলোর বরাতে বলা হচ্ছে, তারা গোপন পরিকল্পনা করছে যাতে ভেনেজুয়েলার ভেতরে ঘাড়ানো টার্গেট হামলা করা যেতে পারে — বিশেষ করে ড্রাগ চিহ্নিত চক্র ও তাদের ল্যাবগুলোর ওপর। এর আগে, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ক্যারিবীয় মহাসাগরে ভেনেজুয়েলা থেকে ‘ড্রাগ বোত’ লক্ষ্য করে কয়েকটি হামলা চালিয়েছে, যার ফলে বহু নিহত হয়েছে ও আন্তর্জাতিক আইনগত ও নৈতিক প্রশ্ন উঠেছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী ও সামরিক সম্পদ ক্যারিবীয় অঞ্চলে মোতায়েন করেছে — বিশেষ করে পুয়ের্টো রিকো অঞ্চলে F-35 স্টিলথ ফাইটার জেট মোতায়েন করা হয়েছে বলে সংবাদে জানা গেছে, যা উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। মাদুরোর সরকারও অভিযুক্ত করে যে যুক্তরাষ্ট্র মাদক পাচার ও চক্রান্তকে অজুহাত ব্যবহার করে দেশটির সার্বভৌমত্ব হরণ করতে চাইছে।

3 Oct 2025 | Pic: Collected
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন যে যদি যুক্তরাষ্ট্র কোনো হামলা চালায়, তিনি ‘অত্যাবস্থা’ ঘোষণা করবেন এবং সামরিক বাহিনী, জনশক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণে নেবেন। এছাড়া, দেশীয় অপারেশনগুলোর জন্য আইনগত ভিত্তি শক্ত করার জন্য তিনি একটি নিরাপত্তা ডিক্রি অনুমোদন করেছেন, যার ফলে তিনি নতুন ক্ষমতা পেয়েছেন — সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা, জনসাধারণের সেবা ও গুরুত্বপূর্ণ খাত পরিচালনায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করা।
কিন্তু বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছিলেন যে, এখনও পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র কোনো গ্রাউন্ড ইনভেশন (স্থল যুদ্ধ অভিযান) ঘোষণা করেনি। তারা বলছে, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত ধাপে ধাপে কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে — বিমান ও নৌ অভিযান, বিশেষ হামলা ও মাদকের চক্রগুলোর বিরুদ্ধে গোপন অপারেশন। এই প্রস্তুতি মাদুরোকে চাপে এনে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে।
এবং অবশ্যই, এই প্রকল্প যদি বাস্তবায়িত হয়, তা আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সংক্রান্ত বাধার মুখে পড়বে। অন্য দেশের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ, নজরদারি প্রক্রিয়ার লঙ্ঘন এবং যুদ্ধ আইন লঙ্ঘন এসব প্রশ্ন তুলতে পারে। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপের বৈধতা — তারা কি কংগ্রেসের অনুমতি নিয়েছে? — এমন প্রশ্ন উঠে আসছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে: অনেক দেশ এই সম্ভাব্য হস্তক্ষেপকে “আঞ্চলিক শান্তি বিঘ্ন” বলছে, এবং কিছু দেশ কাতার বা অন্য মঞ্চে সমালোচনা করতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে, মাদুরো সরকারের পক্ষ থেকে আঞ্চলিক দেশগুলোকে একত্রে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই মুহূর্তে, যদি যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পিত অভিযান শুরু করে— তা হবে একটি নতুন ও গভীর রাজনৈতিক ও সামরিক কম্পাস যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে। তবে সেটা কতটা সফল হবে, আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও আইনগত বাধা কতটা পার হবে — এসবই এখন অপেক্ষার বিষয়।




