পাঁচ বছর বিরতির পর ২৬ অক্টোবর ২০২৫ থেকে ভারত ও চীন সরাসরি বিমানচালনা পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ককে সহনশীলভাবে স্বাভাবিক করার একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। এই সিদ্ধান্ত ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রণালয় ও বিমান পরিবহন সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের পর নিশ্চিত হয়েছে।

3 Oct 2025 | Pic: Collected
২০১৯–২০ সাল থেকে এই সরাসরি বিমান যোগাযোগ বন্ধ ছিল। এই স্থগিততা মূলত শুরু হয়েছিল কোভিড-১৯ মহামারির কারণে এবং পরবর্তীতে সীমান্ত সংঘর্ষ ও সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তা দীর্ঘায়িত হয়। বিশেষ করে ২০২০ সালে গালওান উপত্যকায় ভারত ও চীনের সেনাদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়, যেখানে ২০ জন ভারতীয় ও ৪ জন চীনা সৈন্য নিহত হন — এরপর থেকে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক ফ্লাইটগুলোর মাঝেও বড় বাধা সৃষ্টি হয়।
ভারতের বৃহত্তম বেসরকারি এয়ারলাইন IndiGo ঘোষণা দিয়েছে তারা কলকাতা থেকে গুয়াংঝাউ (Guangzhou) রুটে প্রতিদিন সরাসরি বিমান পরিচালনা করবে। এছাড়া নির্ধারিত রুটগুলির মধ্যে দিল্লি–গুয়াংঝাউ রুটটি চালুর সম্ভাবনাও রয়েছে, যদি প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও শর্ত পুরণ করা হয়।চীনা পক্ষও এই উদ্যোগকে সমর্থন করছে বলে সংবাদ জানায়।
তবে বিমানের পুনরায় চালু প্রক্রিয়া কোনো আমনি কাজ নয়। প্রতিটি রুট এবং বিমান সংস্থা (Carrier)–কে বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত, অপারেশনাল মানদণ্ড ও নিয়ন্ত্রক অনুমোদন পূরণ করতে হবে। এছাড়া নিরাপত্তা, বিমান ন্যাভিগেশন সুবিধা ও অবকাঠামোগত সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে—যাতে ফ্লাইট নির্ভরযোগ্যভাবে চালানো যায়।
২৬ অক্টোবর থেকে সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়া ভারত-চীন সম্পর্কের একটি মনোরম সূচনাকে নির্দেশ করে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর এ উদ্যোগ যোগাযোগ ও সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে। তবে পথ সহজ নয় — আবেদন, নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবিক প্রক্রিয়াগত প্রস্তুতি ঠিকভাবে হয়েই শেষ পর্যন্ত সফলতা আসবে কি না, সেটিই দেখার বিষয়।




