ণঅধিকার পরিষদের সভাপতি এবং সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর গত ৪ অক্টোবর সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফিরেছেন; বিমানবন্দরেই তিনি জোরালো ভাষায় অভিযোগ করেন যে বিজয়নগরে (২৯ আগস্ট) ঘটানো তাদের ওপর যে হামলা তা ছিল পরিকল্পিত “টার্গেট অপারেশন”, এবং এটি কোনও সাধারণ সূত্রে ঘটেনি—অর্থাৎ তাদেরকেই সরাসরি লক্ষ্য করে ভয়াবহভাবে আক্রমণ করা হয়েছিল যা দেশের নিরাপত্তা নজিরে খুবই ক্ষতিকর ও অগ্রহণযোগ্য ঘটনা; নুর আরও বলে ফেলেন, এমন বর্বরোচিত হামলা ফরেও কোনো সময়—যখন শেখ হাসিনা শাসনকালে তারা সরকারকে তীব্রভাবে সমালোচনা করত—ও ঘটেনি, তাই যারা এর সাথে জড়িত তাদের মধ্যে “যত বড় ক্ষমতাধর ব্যক্তি” থাকুক, তাকে বিচারের মুখোমুখি করে চাকরিচ্যুত ও দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, অন্যথায় ভবিষ্যতে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর একই ধরণের হয়রানি অব্যাহত থাকবে বলে তিনি সতর্ক করে দেন।

5 Oct 2025 | Pic: Collected
ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে নুরের সবচেয়ে তীব্র অভিযোগগুলো হল— ঘটনাস্থলে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও certain তৎপর পক্ষের একযোগে আচরণ ছিল যা “টার্গেট” প্রমাণ করে, এবং এই আক্রমণের উদ্দেশ্য ছিল তাদেরকে চরমভাবে ধাক্কা দিয়ে অন্য রাজনৈতিক খেলোয়াড়দের মেসেজ পাঠানো; তিনি বলেন, “আমি অন্যান্য রাজনৈতিক দল এবং গণঅভ্যুত্থানকারী নেতাদের বলতে চাই, আপনারা যদি পরবর্তী সিরিয়ালে পড়তে না চান, এই ঘটনায় যেই জড়িত থাকুক… তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।” (ইত্তেফাক, যুগান্তর রিপোর্টজাত সূত্রাদি)। হাই-গ্যাভারি ঘটনার চিকিৎসা প্রসঙ্গে, নুর-সংক্রান্ত ভাঙ্গা নাসিকহাড়, মাথায় আঘাত এবং সামান্য ব্রেইন হেমোরেজের মতো গুরুতর আঘাতের তথ্য হাসপাতাল ও চিকিৎসকগণের প্রাথমিক রিপোর্টে আসে—ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক এবং চিকিৎসকরা মন্তব্য করেছেন যে তিনি আংশিক সচেতনতা ফিরে পেয়েছেন, এবং একটি ছয় সদস্যের মেডিকেল বোর্ড তাকে দেখভাল করছিল; বিভিন্ন মাধ্যম এই চিকিৎসাজটিলতার বর্ণনা করেছে এবং প্রাথমিক ময়নাতদন্তে নুরের নাকের হাড় ভাঙা এবং মস্তিষ্কের অনেকে লঘু আঘাতের উল্লেখ আছে। । ঘটনার দিন রাজধানীর বিজয়নগর-কাকরাইল সেক্টরে জাপা (জাতীয় পার্টি) ও গণঅধিকার পরিষদের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে; চোখেদেখা প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন এক পর্যায়ে পুলিশের ব্যাটন চার্জ ও সেনাবাহিনী নামিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়—এর ফলে অন্তত ৫০-এরও বেশি সুবিধাভোগী ও কর্মী আহত হয়েছেন যার মধ্যে নুর অন্যতম। (ঢাকা ট্রিবিউন, প্রোথম আলোর প্রতিবেদন)। ঘটনার পরে দেশজুড়ে নিন্দা এবং প্রতিবাদ নামে—বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংগঠিত এলাকায় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়; কিছু স্থানে জাপা অফিস আক্রমণ ও ভাঙচুরের খবরও আসে; পাশাপাশি “বিচারাধীন তদন্ত” আর “জনালোকচর্চা” দাবি করে রাজপথে নানা কর্মসূচি গৃহীত হয়—যার ফলে রাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বাড়ে।
নুর নিজে সংবাদপত্রে আরও দাবি করেন যে, বিগত সময়ে, “আওয়ামী লীগ সরকার একটি বিতর্কিত নির্বাচন করায় সাবেক সিইসি-র গলায় জুতার মালা পরানো হয়েছে” এবং “সাবেক এক প্রধান বিচারপতি পালিয়ে গেছে দেশ থেকে”—এই রকম রাজনৈতিক ঘটনাবলিও দেশের সাম্প্রতিক অস্থিরতার অংশ হিসেবে তিনি কৌশলে তুলে আনেন, এবং বলেন, এসব ভয়াবহতা ও বিচারবহির্ভূত কর্ম প্রতিহত না হলে ভবিষ্যৎ নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হবে; এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন যে, ঘটনার তদন্তে গঠিত যে গতানুগতিক (administrative) কমিটিগুলো—তারা সময় নষ্ট করছে, রিপোর্ট প্রকাশে অনীহা দেখাচ্ছে এবং ৩৫ দিন পার হওয়ার পরও কার্যকর ও স্বচ্ছ তদন্ত না হওয়ায় তিনি গভীর নিন্দা জানান। । তার বাড়তি হুঁশিয়ারি হচ্ছে—যদি এই হামলার বিচার না করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর দমনাত্মক আচরণ বেড়ে যাবে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন রাখা কঠিন হবে; এখানে তিনি সরাসরি নির্বাচন-প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা সম্পর্কে জনগণের প্রতি ও প্রশাসনের প্রতি প্রশ্ন তোলেন।
সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার ন্যায্য তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে বলে সরকারি বক্তব্যে উল্লেখ আছে; তবে আদ্যোপান্ত বিচারিক ও স্বাধীন তদন্ত আসা পর্যন্ত রাজনৈতিক পরিণতি ও জন-আস্থা বাড়াতে পারবেনা বলে সমালোচকরা বলছেন—তারা সুস্পষ্টভাবে দাবী করছেন একটি স্বাধীন বিচার বিভাগীয় (judicial) তদন্ত কমিশন স্থাপন করতে যাতে অভিযুক্তদের সনাক্তকরণ, সাক্ষ্য-নিরীক্ষা ও দায় প্রমাণ করতে পারেন। (দ্য ডেইলি স্টার-এর কলাম ও সংবাদ বিশ্লেষণ)। নূরের চিকিৎসার তথ্যসূত্র অনুযায়ী, তিনি সিঙ্গাপুরে বিশেষ চিকিৎসা নিয়ে আজ দেশে ফিরেছেন এবং বিমানবন্দরে তিনি নিজে ঘটনাটিকে “টেকনোলজিক্যাল এবং রাজনৈতিক” দুটো চোখে দেখে নেবেন বলে মন্তব্য করেছেন—তার বক্তব্যে প্রতীয়মান যে তিনি রাজনৈতিকভাবে, সংগঠনিকভাবে ও আইনগতভাবে এই ঘটনার প্রতিকার চান। (ইত্তেফাক, যুগান্তর)।
অবশ্যই এই ঘটনার সব দিক এখনো দণ্ডিত বা সম্পূর্ণভাবে প্রমাণিত নয়; বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে আপডেট হিসেবে বলা হচ্ছে—মামলা, তদন্ত কমিটি রিপোর্ট, সত্যায়িত মেডিকেল রিপোর্ট ও প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ একত্রে বিচার করা হবে; এবং স্বাধীনতা, আইনের শাসন ও মানবাধিকারের রক্ষার জন্য যথাযথ তদারকি অপরিহার্য।




