যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক মর্মাগ্রাহী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যদি হামাস গাজা শান্তি প্রস্তাব গ্রহণ না করে, তবে তাদের ওপর এমন একটি প্রতিশোধ হবে যা “নরকদের মতো” বলে অভিহিত করেছেন — তিন দিনের মধ্যে উত্তর না দিলে “সকল বাজি শেষ” হবে বলা পর্যন্ত কঠোর ভাষায় তাগিদ দিয়েছেন। এ প্রস্তাবনাটি ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বিজনমিন নেতানিয়াহু এক যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে ঘোষিত ২০-দফা পরিকল্পনার অংশ; এই পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত আছে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, বন্দিদের বিনিময়, হামাসকে অস্ত্রত্যাগ করতে বলা ও গাজা অঞ্চলে একটি গণতান্ত্রিক এবং প্রান্তিক প্রশাসনিক পরিষদ প্রতিষ্ঠার ধারণা।
5 Oct 2025 | Pic: Collected
ট্রাম্প শুক্রবার তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ঘোষণা করেন যে রাখা হয়েছে একটি চূড়ান্ত সময়সীমা — রবিবার সন্ধ্যা ৬ টা (ওয়াশিংটন সময়) — এবং সেই সময়সীমা অতিক্রম করলে হামাসের জন্য “নরক” অপেক্ষা করবে। তিনি আরো বলেন যে, “দয়া না করলে এটি শেষ সুযোগ”, এবং দাবী করেন যে সকল দেশ ইতিমধ্যেই চুক্তিতে সই করেছে—হামাসকে বাদ দিয়ে।
এই হুঁশিয়ারির পেছনে যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পনা কার্যকর করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, অর্থাৎ অভিযান তীব্র করাসহ কূটনৈতিক ও সামরিক বিকল্প প্রয়োগ করা হতে পারে। যদিও প্রশাসন স্পষ্ট করে উল্লেখ করেনি কী ধরনের প্রতিক্রিয়া হবে, তবে তারা বলেছে যে প্রেসিডেন্টই সিদ্ধান্ত নেবেন, এবং অত্যাচারমূলক দৃশ্য প্রত্যক্ষ হলে যুক্তরাষ্ট্র “সঠিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে”।
এই ঘোষণা মঞ্চে আসে এমন এক সময়ে, যখন হামাস ও মধ্যস্থকারী দেশগুলি ইতিমধ্যে আলোচনায় লিপ্ত রয়েছে। কাতার, মিশর ইত্যাদি মধ্যস্থ সংস্থা হিসেবে কাজ করছে; কখনো কখনো হামাস ঘোষণা দেয় যে তারা শর্ত মেনে কথা বলার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তবে অস্ত্রত্যাগে তাঁরা অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের ভাষা কূটনৈতিক উত্তেজনাকে মাত্র আরও বাড়াতে পারে। কারণ যদিও শান্তি প্রস্তাব সাধারণভাবে স্বাগত ছিল, হামাস ও তাদের মিত্ররা শর্ত-নির্ধারক হিসেবে “সম্পূর্ণ প্রত্যাহার” ও “আভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ” দাবি করছে, যা ট্রাম্প ও ইসরায়েল বিবেচনায় শর্তী।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে, গাজায় ইতিমধ্যেই মানবিক অবস্থা ক্রমশ খারাপ হচ্ছে— সশস্ত্র সংঘর্ষ, বেসামরিক মৃত্যুর হার, রেশন ও চিকিৎসাসেবা সংকট — এবং ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি নতুন চাপ বাড়াবে।
আসলে, এই হাসান-সমস্ত পরিস্থিতি দেখাচ্ছে যে যুদ্ধও কূটনীতি একে অপরের সঙ্গে গাঁথা; যেখানে শুধু বাহিনী চালনা করলেই হল না — এমন হুঁশিয়ারি ও মেসেজ বিনিময় একটি বৃহত্তর রাজসূত্র। আর এই মহাবিপর্যয়ের মাঝে, গাজার সাধারণ মানুষ ও বন্দিদের দুর্দশা আরও প্রকট হবে।



