২০২৫ সালের রসায়ন নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে, এবং এই পুরস্কার ভাগাভাগি করে পেয়েছেন ওমর এম. ইয়াগি (Omar M. Yaghi), জাপানের Susumu Kitagawa এবং অস্ট্রেলিয়ার Richard Robson। তারা পুরস্কার পান Metal-Organic Frameworks (MOFs) নামক নতুন আণবিক কাঠামো বিকাশ করার জন্য, যা গ্যাস ধারণ, কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ, এবং মরুভূমির বায়ু থেকে পানি উৎপাদনসহ নানা পরিবেশগত সমস্যায় প্রযুক্তিগত সমাধান আনতে সক্ষম।
পরিশেষে পুরস্কার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই MOF কাঠামোগুলোর অভ্যন্তরীণ পরিমাপ এত বিশাল যে একটি ছোট ঘনক আকৃতির উপাদান ফুটবল মাঠের পরিমিতির সমান অভ্যন্তরীণ পৃষ্ঠতল ধারণ করতে পারে — একে তুলনা করা হয়েছে হ্যারি পটার সিরিজের হারমায়োনির ‘হ্যান্ডব্যাগ’-এর সঙ্গে।
8 Oct 2025 | Pic: Collected
ওমর ইয়াগি জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৯৬৫ সালে আমন, জর্ডানে, পিতামাতার শরণার্থী পরিবারে; তাঁর পিতা-মাতা ছিলেন ফিলিস্তিন থেকে আলোচ্য ভূমি ত্যাগ করে যাওয়া শরণার্থী। ছোটবেলায় তারা একটি ঘরে বাস করতেন যেখানে গবাদিপশু ও মানুষ মিলেমিশে থাকত, এবং ঘরে বিদ্যুৎ ও চলমান পানি ছিল না।
১৫ বছর বয়সে, ওমর যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন পড়াশোনার জন্য। ইংরেজিতে অল্প দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও তিনি শুরু করেছিলেন Hudson Valley Community College–এ, পরে SUNY Albany থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন এবং University of Illinois, Urbana–Champaign থেকে পিএইচডি অর্জন করেন। বিজ্ঞান গবেষণার ক্ষেত্রে, তিনি প্রথমেই “reticular chemistry” নামে একটি ধারণা গড়ে তোলেন — যা বিভিন্ন ধাতু ও জৈব লিঙ্কার ব্যবহারে আণবিক ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা যায়।
তার গবেষণার ফলে তৈরি MOF কাঠামোগুলো বহুমুখী ব্যবহার পায়: গ্যাস স্টোরেজ, কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ, মরুভূমির বায়ু থেকে পানি আহরণ, বিষাক্ত গ্যাস ধারণ ইত্যাদি। ওমর বর্তমানে University of California, Berkeley-তে অধ্যাপক; তিনি “Berkeley Global Science Institute” ও “Kavli Energy NanoScience Institute” ইত্যাদির সৃষ্টিও করেছেন। তাঁর জীবনী-বিভাগে প্রকাশ, তিনি নোবেল পুরস্কার ঘোষণার সময় একটি বিমানবন্দরে ছিলেন — সংবাদ পেয়ে মুহূর্তেই “astonishment, delight, gratitude” অনুভব করেছেন।
ওমর তাঁর интервьюতে বলেছেন, “আমি সৃজনশীল কিছু তৈরি করতে এবং মেধার সমস্যাগুলো সমাধান করতে প্রস্তুত ছিলাম” — এবং এই মনোভাবই তাঁকে এই উচ্চতায় এনে দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, বৈজ্ঞানিক গবেষণা সব মানুষকে সমান সুযোগ দিতে পারে — “Science is the greatest equalizing force in the world.”
এই নোবেল পুরস্কার শুধু ওমরের জন্য নয় — এটি একটি প্রতীক ও অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে অগণিত শরণার্থী ও পিছিয়ে থাকা সমাজের জন্য — যে কেউই যদি মেধা ও অধ্যবসায় রাখে, সে বিশ্বমানের সাফল্য অর্জন করতে পারে।



