আটলান্টা (জর্জিয়া) থেকে মুজিব মাসুদ: যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি আমেরিকানদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ক্রমেই বাড়ছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার জর্জিয়ার ডুলুথ সিটি কাউন্সিলের পোস্ট-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ নেতা শাফায়েত আহমেদ। দীর্ঘদিন ধরে জর্জিয়ায় বসবাসরত এই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার গত চার বছর ধরে ডুলুথ শহরের বাসিন্দা এবং স্থানীয় সমাজে সক্রিয় নাগরিক হিসেবে পরিচিত। নির্বাচিত হলে তিনি শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, বাড়ির মালিকানা বৃদ্ধি, জননিরাপত্তা জোরদার এবং ডুলুথকে গুইনেট কাউন্টির অন্যতম অতিথিপরায়ণ শহর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার অঙ্গীকার করেছেন।

10 Oct 2025 | Pic: Collected
শাফায়েত আহমেদ বলেন, “আমি চাই ডুলুথকে প্রতিবেশী শহর সুয়ানি ও জনস ক্রিকের সমান কিংবা তার চেয়েও এগিয়ে নিয়ে যেতে, বিশেষ করে স্কুল পারফরম্যান্স ও হোম ওনারশিপের ক্ষেত্রে।” তাঁর ভাষায়, শহরের প্রতিটি উন্নয়নই নাগরিকদের অংশগ্রহণের ওপর নির্ভর করে, আর তিনি সেই অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করতে চান। জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির পেরিমিটার কলেজ থেকে স্নাতক শাফায়েত বর্তমানে একজন সিনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত। পাশাপাশি নাগরিক সমাজে সক্রিয় থাকার কারণে স্থানীয় কমিউনিটিতে তাঁর পরিচিতি অনেক বিস্তৃত। তিনি ডুলুথের Zoning Board of Appeals-এর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, LEAD Civic Engagement Program-এর স্নাতক এবং জনপ্রিয় Duluth Fall Festival-এর স্বেচ্ছাসেবক হিসেবেও দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত আছেন। শাফায়েতের বিশ্বাস— “নেতৃত্ব শুরু হয় সবার কথা শোনার মধ্য দিয়ে।” তাঁর মতে, কার্যকর নেতৃত্ব মানে হলো মানুষের প্রয়োজন বুঝে পরিকল্পনা তৈরি করা এবং সবার মতামতকে মূল্য দেওয়া।
নির্বাচিত হলে তিনি Gwinnett County Board of Education-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চান শিক্ষার মানোন্নয়নে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আরও সম্পদ বাড়াতে। পাশাপাশি জননিরাপত্তায় বিনিয়োগ বাড়ানোরও পক্ষে তিনি, যার মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য নিয়োগ এবং নিরাপত্তা ক্যামেরা স্থাপন অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে ডুলুথ শহর নিরাপত্তার দিক থেকে জর্জিয়ার নবম স্থানে রয়েছে, কিন্তু শাফায়েত মনে করেন, এই অবস্থান আরও উন্নত করা সম্ভব যদি শহরবাসী ও কর্তৃপক্ষ একসঙ্গে কাজ করে। হোম ওনারশিপ বা বাড়ির মালিকানা বৃদ্ধি তাঁর অন্যতম প্রধান প্রচারণা ইস্যু। বর্তমানে ডুলুথে বাড়ির মালিকানা হার ৫২ শতাংশ, যেখানে প্রতিবেশী শহর জনস ক্রিক ও সুয়ানিতে তা ৮০ শতাংশেরও বেশি।
শাফায়েত মনে করেন, “বাসিন্দাদের নিজেদের ঘরের মালিক হতে উৎসাহিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদে ডুলুথে থাকার পরিবেশ তৈরি করাই কমিউনিটির স্থিতিশীলতার মূল চাবিকাঠি।” তাঁর পরিকল্পনায় রয়েছে শহরের Downtown Duluth পুনরুজ্জীবন, ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য নতুন প্রণোদনা, পার্ক ও বিনোদন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পরিবারবান্ধব সামাজিক পরিবেশ গড়ে তোলা। বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া শাফায়েত আহমেদ ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং এখানেই বেড়ে ওঠেন। তিনি বলেন, “আমার ব্যক্তিগত যাত্রা আমাকে শিখিয়েছে, বৈচিত্র্য ও ঐক্য একসঙ্গে থাকলে সমাজ আরও শক্তিশালী হয়। ডুলুথের সৌন্দর্য এখানেই— এখানে বিভিন্ন সংস্কৃতি, সম্প্রদায় ও সুযোগ একসাথে বিকশিত হয়।” তাঁর মতে, ডুলুথ এমন একটি শহর যেখানে “সম্প্রদায়, সুযোগ ও সামর্থ্যের সেরা ভারসাম্য” বিদ্যমান এবং সঠিক নেতৃত্বের মাধ্যমে এটি আরও এগিয়ে যেতে পারে, সেই অনন্য বৈশিষ্ট্য হারিয়ে না ফেলে যা একে বিশেষ করে তুলেছে। স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিরাও তাঁর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য এটি একটি অনুপ্রেরণার উদাহরণ বলে মন্তব্য করেছেন।




