মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা কখনোই গোপন করেননি। গতকালও তিনি দাবি করেছেন, প্রথম ও দ্বিতীয় মেয়াদে তিনি বিশ্বের আটটি বড় সংঘাতের সমাধান করেছেন—এর মধ্যে রয়েছে গাজার যুদ্ধও। তবে তার এই দাবির বেশিরভাগই অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি বা সাময়িক সমঝোতা চুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত, দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তির নয়।

10 Oct 2025 | Pic: Collected
এ বছরের শুরুতে ইসরাইল-ইরান ১২ দিনের যুদ্ধে তার ভূমিকা কিছুটা স্পষ্ট হলেও, অন্যান্য ক্ষেত্রে তা প্রশ্নবিদ্ধ। উদাহরণস্বরূপ, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর কৃতিত্ব ট্রাম্প নিজের নামে নিলেও, নয়াদিল্লি তা নাকচ করেছে। এছাড়া মিশর ও ইথিওপিয়ার মধ্যে গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁস বাঁধ (জিইআরডি) নিয়ে যে টানাপোড়েন চলছিল, তাতেও কোনো কার্যকর সাফল্য দেখাতে পারেননি ট্রাম্প। আবার প্রথম মেয়াদে সার্বিয়া ও কসোভোর মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে যে ‘বিস্তৃত চুক্তির’ দাবি তিনি করেছিলেন, তার অনেক ধারাই বাস্তবায়িত হয়নি।
হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়া
নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র স্টিভেন চিউং এক্স–এ লিখেছেন, ট্রাম্প একজন প্রকৃত মানবতাবাদী। তার মতো ইচ্ছাশক্তিসম্পন্ন মানুষ আর নেই, যিনি একাই পাহাড় সরাতে পারেন। তিনি আরও বলেন, নোবেল কমিটি প্রমাণ করেছে, তারা শান্তির চেয়ে রাজনীতিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।
নোবেল কমিটির ব্যাখ্যা
নোবেল শান্তি পুরস্কারের স্বপ্নটা এবারও পূরণ হলো না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। শেষ এক বছরে বিশ্বজুড়ে একাধিক সংঘাত রুখে দিয়েছেন, এমন দাবি করে নিজেকে নোবেলের দাবিদার হিসেবে ঘোষণা করে আসছিলেন দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় আসা এই রাজনীতিক।
এ বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো। ভেনেজুয়েলার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় মাচাদোর নিরলস কাজ ও দেশটিতে একনায়কতন্ত্র থেকে ন্যায্য ও শান্তিপূর্ণ পরিবর্তনের সংগ্রামের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্প নোবেল পুরস্কার পাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে আসছেন। তিনি মনে করেন, বিশ্বজুড়ে সংঘাত কমাতে তার ভূমিকা বড়। বৃহস্পতিবার এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘তারা যা করবে, সেটা তাদের বিষয়। আমি একটাই কথা জানি—আমি এসব কিছু পুরস্কারের জন্য করিনি। আমি করেছি, কারণ আমি অনেক মানুষের জীবন বাঁচিয়েছি।’
২০২৫ সালের জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ১ ফেব্রুয়ারি। ট্রাম্পের কিছু মনোনয়ন সেই সময়সীমার পর জমা পড়ায় সেগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। নিউইয়র্কের রিপাবলিকান প্রতিনিধি ক্লডিয়া টেনি ডিসেম্বরে তাকে মনোনীত করেছিলেন ২০২০ সালে ইসরাইল ও কয়েকটি আরব দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ চুক্তির মধ্যস্থতার জন্য।
ট্রাম্প ও তার সমর্থকেরা অবশ্য এই সিদ্ধান্তকে তার প্রতি ‘ইচ্ছাকৃত উপেক্ষা’ হিসেবে দেখছেন। তাদের দাবি, ট্রাম্প ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
২০২৬ সালের জন্য সম্ভাবনা
২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার জিততে ব্যর্থ হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার পুরস্কারটি পেয়েছেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী রাজনীতিক মারিয়া কোরিনা মাচাদো। তবে ট্রাম্পের সামনে এখনো সুযোগ আছে—আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জয়ের।
নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রথম দেওয়া হয় ১৯০১ সালে। আলফ্রেড নোবেল তার উইলে উল্লেখ করেছিলেন, এই পুরস্কার দেওয়া হবে এমন কাউকে, যিনি জাতির মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন, নিরস্ত্রীকরণ বা শান্তি প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন।
এ পর্যন্ত তিনজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই পুরস্কার পেয়েছেন—থিওডোর রুজভেল্ট (১৯০৬), উড্রো উইলসন (১৯১৯) ও বারাক ওবামা (২০০৯)। সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার পুরস্কার পেয়েছিলেন ২০০২ সালে, আর সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যালবার্ট আরনল্ড গোর বা আল গোর পেয়েছিলেন ২০০৭ সালে।




