যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেসরকারিভাবে ঘোষণা করেছেন যে, নভেম্বর ১, ২০২৫ থেকে চীনের আমদানির ওপর বর্তমানে প্রায় যেকোনো শুল্কের ওপর অতিরিক্ত ১০০ % শুল্ক আরোপ করা হবে। এই ঘোষণা এমন এক সময় এলো যখন চীন সম্প্রতি রেয়ার আার্থ মেটালের (rare earth elements) রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা টেকনোলজি ও প্রতিরক্ষা সেক্টরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ট্রাম্প তাঁর Truth Social প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, “চীন ইতিমধ্যে কঠোর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে — এই সিদ্ধান্তের উত্তরে আমরাও লাগব অতিরিক্ত শুল্ক।”তিনি আরও জানান, নতুন শুল্ক বর্তমানে যে শুল্ক তারা দিচ্ছে তার উপরে যুক্ত করা হবে।

11 Oct 2025 | Pic: Collected
এছাড়া, ট্রাম্প জানিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্র সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যারে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণও শুরু করবে — অর্থাৎ সফটওয়্যার রপ্তানি সীমাবদ্ধ করবে। এ ছাড়া, চীনের সঙ্গে আগামী এপেক (APEC) শীর্ষ বৈঠকে Xi Jinping–এর সাথে তার পরিকল্পিত বৈঠক বাতিল করার ইঙ্গিতও দিয়েছেন।
নতুন শুল্ক কার্যকর হবার আগে, মার্কিন শেয়ারবাজারগুলো নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হয়; Dow Jones প্রায় ৯০০ পয়েন্ট পতন ঘটে এবং S&P 500 প্রায় ২.৭ % পড়ে গিয়েছে। চীনের রপ্তানিকারকরা তখনই দ্রুত চালান পাঠানোর চেষ্টা শুরু করেছে যাতে নতুন শুল্ক কার্যকর হওয়া তার প্রভাব কম হয়।
ট্রাম্প কর্তৃক এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে একটি বড় কারণ হলো — চীনের রেয়ার আর্থ উপাদানের কঠোর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ। চীন বিশ্বের অনেক রেয়ার মেটাল সরবরাহ করে; তাই রপ্তানির নিয়ন্ত্রণ মার্কিন শিল্প, বিশেষ করে ইলেকট্রনিক্স ও প্রতিরক্ষা শিল্পকে প্রভাবিত করতে পারে।
এই ঘোষণার প্রতিক্রিয়া হিসেবে চীনা অফিসগুলোর মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে। অনেক রপ্তানিকারক দ্রুত চালান পাঠানোর চেষ্টা করছে, আবার অনেকে আশা করছে শেষ মুহূর্তে শুল্ক ফিরিয়ে নেয়া হতে পারে — যদিও তা ঘটবে কি না সন্দেহ রয়েছে।
তবে সঙ্গে রয়েছে সম্ভাব্য খরচ ও ঝুঁকি: উচ্চ শুল্ক আমদানির খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে, শেষ ব্যবহারকারীদের পণ্যের মূল্য বাড়তে পারে, এবং বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষেত্রে বিক্রিয়তা কমিয়ে দিতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, একপক্ষে এ ধরনের পদক্ষেপ অর্থনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
এই সিদ্ধান্ত মার্কিন-চীন বাণিজ্যযুদ্ধকে নতুন মাত্রা দিতে পারে, এবং বিশ্ব বাণিজ্য ব্যাহত হতে পারে। ভবিষ্যতে কি দৃষ্টিভঙ্গি বদলাবে, বা চীন কীভাবে প্রতিরোধ করবে — তা দেখার বিষয়।




