যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার (ওয়াল স্ট্রিট) শুক্রবার এক ভয়াবহ পতনকে প্রত্যক্ষ করল, যা চলমান ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে শেয়ারবাজারে সবচেয়ে বড় একদিনের ধস হিসেবে ধরা হচ্ছে। ডাউ জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ প্রায় ৮৭৮ পয়েন্ট (প্রায় ১.৯%) পতন করল, S&P 500 সূচক ২.৭ শতাংশ এবং নাসডাক ৩.৫৬ শতাংশ লুটিয়ে পড়ল — যা এ বছরের এপ্রিল মাসের পর থেকে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর একদিনের ঘাটতি। এই বড় পতনের মূল কারণ ছিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীনের ওপর নতুন কঠিন শুল্কের হুমকি ও রেয়ার আর্থ উপাদানের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে চীন–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা বৃদ্ধি। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একবার বলেন, “চীন অত্যন্ত শত্রুতাপূর্ণ আচরণ করছে” এবং নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করেছেন, যা বাজারে এক তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

12 Oct 2025 | Pic: Collected
শেয়ারবাজারের এই ধস শুধু এক দেশের সীমাবদ্ধ ছিল না — আন্তর্জাতিক বাজারগুলোও ঘুরে দাঁড়াতে ব্যর্থ হলো। বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিমূলক সম্পদ থেকে সরে গিয়ে সোনা ও সরকারি বন্ডে আশ্রয় নেয়।বিশেষ করে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো — যেমন Nvidia, Amazon, AMD — বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে। ১০ বছরের ট্রেজারি বন্ডের ফলনও নেমে আসে প্রায় ৪.০৫%–৪.০৬%-এ, যা বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ প্রবণতা নির্দেশ করে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই ধস শুধু বর্তমান উত্তেজনার ফসল নয় — উচ্চ মূল্য নিরূপণ, এআই সেক্টরের উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা দীর্ঘকাল থেকেই গাণিতিক মডেলে ঝুঁকি সংকেত দিচ্ছিল। অনেকেই বলছেন, এই পতন ২০২৫ সালের শেয়ারবাজার ক্র্যাশের সূচক হতে পারে — যা এপ্রিলেই শুরু হয়েছিল এবং তা এখনও অব্যাহত রয়েছে।
ট্রাম্প-চীন শুল্ক যুদ্ধ, রেয়ার আর্থ নিয়ন্ত্রণ, এবং অর্থনৈতিক নীতির অনিশ্চয়তা — একসঙ্গে মিলিয়ে এই পতনকে ইতিহাসের এক নাটকীয় অধ্যায় বানিয়েছে। আগামী সপ্তাহগুলোতে কি বাজার নিজেদের বাঁধনায় ফিরতে পারবে, নাকি এই ধস হবে দীর্ঘমেয়াদী সংকেত — তা বিশ্ব অর্থনীতি নির্ধারণ করবে।




