নিউ ইয়র্ক শহরের ম্যানহাটন এলাকায় অবস্থিত ২৬ ফেডারেল প্লাজা বিল্ডিংয়ের নাইন্থ ফ্লোর মেইল রুমে বৃহস্পতিবার বিকেলে পাঁচটি খামে একটি সন্দেহভাজন হোয়াইট পাউডার পাওয়া যায়, যার ফলে ভবনটি দ্রুতই ইভাকুয়েশন (ত্যাগ) করা হয় এবং হ্যাজম্যাট দল, NYPD, FBI ও অন্যান্য ফেডারেল সংস্থা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ওই পাউডার বিষয়ে প্রাথমিক পরীক্ষাতে দেখা যায় এটি বোরিক অ্যাসিড (boric acid) — যা বেশিরভাগ সময় কীটনাশক ও রাসায়নিক কাজে ব্যবহৃত হয় এবং সাধারণ অবস্থায় কোনো বিপজ্জনক পদার্থ হিসেবে বিবেচিত হয়নি।
.jpg)
12 Oct 2025 | Pic: Collected
ভবন ছাড়িয়ে দেওয়া এবং সতর্কতা হিসেবে কর্মচারীদের সাময়িকভাবে অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। নিউ ইয়র্ক সিটি মেয়র এরিক অ্যাডামস বলেছেন, প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী “কোনো বিপজ্জনক পদার্থ পাওয়া যায়নি” তবে এই ঘটনা এখনও একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এদিকে, ভবন সংলগ্ন কর্মরত দুই ব্যক্তি পরিচ্ছদের স্পর্শে আসেন, তবে তাদের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সকল গ্রাহক ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গ্রেপ্তার বা সন্দেহভাজন ব্যক্তির নাম এতিমধ্যেই প্রকাশ করা হয়নি। ঘটমান এই ঘটনা জিম্বলিজড রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে ঘটেছে কারণ ২৬ ফেডারেল প্লাজা ভবনটি ICE (Immigration and Customs Enforcement) অফিস, FBI ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ফেডারেল অফিসগুলোর মিলিত কেন্দ্র — এবং ইমিগ্রেশন, অভিবাসন, আল্টারনেটিভ বিচারব্যবস্থা ইত্যাদির ক্ষেত্রে এখানে প্রচুর কর্মসূচি চলে। এ ভবন ইতিমধ্যেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কারণ অভিযোগ আছে, এখানে ধরা পড়ে ছিল অভিবাসীদের জন্য অমানবিক ও দারুণ দুরাবস্থার শর্ত। এগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে এটি একটি সম্ভাব্য “হুমকি চিঠি” (threatening letter) বা বায়ো-সন্ত্রাসবাদমূলক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে — যদিও প্রাথমিকভাবে এটি কোনো ভয়ঙ্কর পদার্থ ছিল না।
এই ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে — বিশেষ করে অতিমাত্রায় চলমান ইমিগ্রেশন নীতির বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া কিংবা প্রশাসনকে উদ্বুদ্ধ করার উদ্দেশ্য। এটিও হতে পারে জনসাধারণের দৃষ্টিতে একটি হুঁশিয়ারি রূপে পাঠানো মেসেজ। FBI ইতিমধ্যে খামের পাউডারগুলিকে Quantico, Virginia–এর ল্যাবে পাঠিয়েছে বিস্তারিত বিশ্লেষণের জন্য। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং ফায়ার ডিপার্টমেন্ট হ্যাজার্ড মেট টিম ভবন ও আশপাশের এলাকা তল্লাশি, আচ্ছাদন এবং সম্ভাব্য অপরিকল্পিত ক্ষতির দিকেও নজর দিচ্ছে।
এই ধরনের ঘটনা আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে কিছু পারিবারিক এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং কঠিন বিচারকবৃন্দের কাছে হোয়াইট পাউডার চিঠি পাঠানোর একটি ইতিহাস রয়েছে — যেমন ২০০৩ সালের রাইসিন চিঠি (Ricin letters) গোয়েন্দা থ্রিলারে পরিণত হয়েছিল। তাই, যদিও বর্তমানে পরিস্থিতি “হুমকি বা বিচলন” পর্যায়ে নেই, আইনশৃঙ্খলা সংস্থা এই ঘটনার পেছনের অভিসন্ধি ও উদ্দেশ্য খুঁজে বের করতে সচেষ্ট। এটি একটি স্মরণীয় ঘটনা হিসেবে থেকে যাবে — যেন এমন ঘটনাগুলোকে হালকাভাবে নেওয়া যায় না।




