নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র পদের নির্বাচন ঘিরে একাধিক বিতর্ক ওঠাপড়ার মধ্যেই অ্যান্ড্রু কুওমো সম্প্রতি একটি মসজিদে গিয়ে যৌনকর্মী সুরক্ষা আইন (sex worker protection/decriminalization law)–কে সামনে এনে বক্তব্য দিয়েছেন যা নিয়ে জোহরান মামদানি অভিযোগ তুলেছেন যে কুওমো “মিথ্যা প্রচার” করছেন। মামদানি দাবি করেছেন, কুওমো মসজিদে মুসলিম ধর্মপ্রচারকের সামনে বলেছিলেন যে মামদানি “যৌনকর্মীদের ক্রিয়াকলাপকে আইনগত স্বীকৃতি দিতে চায়” এবং “সরকারকে নৈতিকভাবে অবলুপ্ত করতে চায়” — যা মামদানি ও তার সমর্থকরা পুরোপুরি ভ্রান্ত ও বিভ্রান্তিমূলক বলে প্রত্যাখ্যান করছেন। মামদানির মতে, কুওমো মসজিদে এমন কিছু বলেছিলেন যা ধর্ম ও সামাজিক নৈতিকতার প্রতি আঘাত, কারণ মুসলিম সম্প্রদায় সাধারণত যৌনকর্মকে ধর্মীয় মূলনীতির দৃষ্টিতে গ্রহণ করে না।

12 Oct 2025 | Pic: Collected
এই বিতর্কের পটভূমিতে, বোঝা জরুরি যে মামদানি আসলে “decriminalize (অপরাধ হতে বাদ দেওয়া)” নীতির পক্ষে, “legalize (পূর্ণভাবে বৈধতা দেওয়া)” নয় — অর্থাৎ তিনি যেটি প্রস্তাব করছেন, তা যৌনকর্মকে অপরাধমুক্ত করলেই হবে, নয় যে প্রমোট করা হবে। [City & State নিউ ইয়র্ক অ্যানালিসিস] তারcampaign-এ চুপচাপ থাকা সত্ত্বেও, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা প্রশ্ন তুলেছেন কেন তিনি তাঁর আগ্রাসী আইনসমর্থন স্পষ্ট করেন না। [City & State] কুওমো তার নির্বাচন প্রচারে একটি প্রেস রিলিজ জারি করেছিলেন যেখানে তিনি বলেন, “মামদানির যৌনকর্মীর আইন প্রস্তাব একটি বিপজ্জনক পদক্ষেপ হবে, যা শোষিতদের আরও শোষণ ও মানবপাচারকারীদের সুযোগ দেবে”।
এই ঘটনাটি আরও গাম্ভীর্য লাভ করেছে কারণ মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে প্রত্যক্ষভাবে উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া এসেছে। মেয়র এরিক অ্যাডামস এক মসজিদে গিয়ে দাবি করেছেন, “যেমন ধর্মে অনুচিত বলা হয়েছে, একজন নেতা মুসলিম হয়েও সমর্থন দিতে পারে না এমন একটি নীতির” — এবং তিনি সরাসরি মামদানির আইনগত দৃষ্টিভঙ্গিকে ধর্ম-অনুপযোগী হিসেবে আলোচনা করেছেন। কিছু মসজিদের ইমাম ও ধর্মগুরুদের মধ্যে কুওমোর বক্তব্যকে নৈতিক ভঙ্গি হিসেবে দেখার প্রবণতা পাওয়া গেছে, এবং তারা সদ্য মন্তব্য করেছেন যে ওই বক্তব্য মুসলমান সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করবে।
তবে মামদানির পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া এসেছে যে তিনি কখনোই যৌনকর্মকে প্রচার করেননি, এবং তার দৃষ্টিভঙ্গি সর্বদা “নি¤নিরাপত্তা ও সামাজিক ন্যায়” কেন্দ্রিক। তিনি বলেছেন, “আমার উদ্দেশ্য জননিরাপত্তা। আইন পরিবর্তনই উদ্দেশ্য নয় — সমাজে নিরাপদ এবং সম্মানজনক অবস্থায় মানুষ থাকতে পারুক, এটি দেখতে চাই।” তার মতে, যুক্তরাজ্যে এবং অন্যান্য উন্নত দেশে এমন নীতি প্রয়োগের পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে যা যৌনকর্মীদের নির্যাতন ও হিংস্রতা থেকে রক্ষা করেছে।
বিগত নির্বাচনি প্রচারণার ভিডিওতে দেখা গেছে—কুওমো একটি মসজিদে উপস্থিত হয়ে একটি মুসলিম নাগরিককে প্রশ্ন করেন, “আপনি কি এখনো মামদানিকে সমর্থন করবেন যদি তিনি যৌনকর্মী আইন সমর্থন করে?”—এবং ওই ব্যক্তি নীরবতা বা সংশয় প্রকাশ করেন। এই দৃশ্য প্রচার করা হয়েছে প্রচারণার কৌশল হিসেবেই, যাতে মুসলিম ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ ও সন্দেহ ছড়িয়ে দেওয়া যায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ইস্যু কেবল একটি সামাজিক নীতি বিষয় নয় — এটি গণতান্ত্রিক ভোটব্যাঙ্ককে লক্ষ্য করে একটি কৌশলমূলক আক্রমণ। যারা ধর্মীয় ভোটারদের কাছ থেকে কড়া মতাবলম্বন আশা করছেন, তারা এসব বিতর্ককে কাজে লাগাচ্ছেন। এই পরিস্থিতি মামদানিকে তার দৃষ্টিভঙ্গি আরও পরিষ্কার ব্যাখ্যা করতে বাধ্য করছে।
সংক্ষেপে, মসজিদে কুওমোর বক্তব্য ও মামদানির প্রতিক্রিয়া এই নির্বাচনী টানাপোড়েনে নতুন মাত্রা এনে দিয়েছে — ধর্ম, আইন ও রাজনীতির সংমিশ্রণে। খুব শিগগিরই এই ইস্যুদিকে কেন্দ্র করে মুসলিম সম্প্রদায়, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং ভোটারদের মধ্যে তীব্র আলোচনা সম্ভাব্য।




