সৌদি আরব ও কাতার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত বিরোধ ও সামরিক উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে মধ্যস্থতা ভূমিকা নিয়েছে — এবং এর প্রভাবে, আফগানিস্তান পক্ষ ঘোষণা করেছে যে তারা যুদ্ধবিরতি স্থগিত করেছে। টলো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগান গঠন (Taliban সরকারের বাহিনী) বলেছে, সৌদি আরব ও কাতারের আহ্বান মানতে তারা হামলা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আফগান সংবাদমাধ্যম জানায়, কাবুলের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, “কাতার ও সৌদি প্রস্তাব দিয়েছিল শান্তি ও আলোচনার পথ অনুসরণ করতে” — এবং তারা সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিয়েছে।

12 Oct 2025 | Pic: Collected
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে সমালোচনামূলক বিবৃতি এসেছে, তারা দাবি করেছে যে আফগান বাহিনী পাকিস্তানের সীমান্ত পোষ্টগুলোতে হামলা চালিয়েছে, এবং ২১টি পাকিস্তানি নিরাপত্তা পোস্ট তারা দখল করার চেষ্টা করেছে। পাকিস্তান সরকার বলেছে, তারা সশস্ত্র অভিযানে ২৩ জন পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়েছে এবং ২৯ জন আহত হয়েছে, পাশাপাশি তারা দাবি করেছে যে তারা ২০০ জন আফগান/তালেবান রণিককে ধ্বংস করেছে।
সৌদি আরব এবং কাতার দ্রুত কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ শুরু করেছিল। সৌদি গেজেট শীর্ষক সংবাদমাধ্যম বলেছে, সৌদির বিদেশ দফতর ঘোষণা করেছে যে তারা ও কাতার উভয়ই দুই দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে — “সীমানা বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা করা হোক এবং উত্তেজনা বাড়াবেন না”। একইভাবে, কাতারও এমন বিবৃতি দিয়েছিল যে তারা উভয় পক্ষকে সংযম ও কূটনৈতিক পথ গ্রহণ করার আহ্বান জানায়।
আফগান উপজেলার একজন বিশ্লেষক বলেছে, “এই মধ্যস্থতা যুদ্ধ বন্ধ করবার একটি প্রয়োজনীয় ধাপ — তবে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমঝোতা অপরিহার্য হবে।” পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদের অভিমত প্রকাশ করার সময় দেখা যায়, অনেকেই নিরাপত্তাভাবে সীমান্ত সমস্যার দ্রুত সমাধান চান, বিশেষ করে যেসব এলাকা যুদ্ধবিরতির কারণে সরাসরি প্রভাবিত।
যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মধ্যেও এক সতর্কতা রয়েছে — আফগান সরকার জানিয়েছে, কোনো নতুন পাকিস্তানি যেকোনো ধরনের হামলা রুখে দিতে তারা “সম্মানজনক ও উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া” দেখাবে। পাকিস্তান এই মূহুর্তে কূটনৈতিক চাপ ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ উভয় ক্ষেত্রেই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এই সংঘর্ষের প্রেক্ষাপট হলো — সম্প্রতি পাকিস্তান দাবি করেছে যে দেশের অভ্যন্তরে তেহরীক-ই-তালেবান পাকিস্তান (TTP) জঙ্গিরা আফগানিস্থান থেকে পাকিস্তান আক্রমণ করছে। আফগানিস্তান পক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।তাছাড়া, সীমান্তে উভয় দেশের সেনাবাহিনী ও কিছু তত্ত্বাবধায়ক পোস্টগুলোর উন্নত অবস্থা ও ঘন সীমান্ত নিরাপত্তার কারণে সংঘর্ষের সুযোগ বেশ বেড়েছে।
সীমান্ত পারাপারে—টোরখাম ও চমন পাস—দুটি মুখ্য গেট অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এ কারণে বাণিজ্য ও যাত্রী চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
এই মধ্যস্থতা ও যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ সাময়িক হলেও, এটি দেখাবে রিজিয়নের রাজনৈতিক ও কূটনীতি কতটা স্পন্দনশীল এবং দুই প্রতিবেশী দেশের জন্য শান্তি প্রতিষ্ঠার চাহিদা কত তা সমর্থন করে।




