চীন সম্প্রতি ঘোষণায় বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বাণিজ্য নীতির বিরুদ্ধে “শেষ পর্যন্ত লড়াই” করতে প্রস্তুত, কারণ ওয়াশিংটনের শুল্ক আরোপ ও নিষেধাজ্ঞাগুলো চীনের অর্থনৈতিক স্বার্থ ও বৈশ্বিক প্রভাবকে হুমকির মুখে ফেলেছে — চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও সরকারি মুখপাত্ররা যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলিকে “অত্যাচারী” হিসেবে অভিহিত করে, ঘোষণা দিয়েছেন যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো বাণিজ্য উদ্যোগের সঙ্গে মোকাবিলা করবে এবং তাদের স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ়ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

15 Oct 2025 | Pic: Collected
গত সপ্তাহে ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষণা দিয়েছিল, ১ নভেম্বর থেকে চীনের পণ্যগুলোর ওপর ১০০% শুল্ক আরোপ করা হবে, যদি চীন বিরোধিত নিষিদ্ধ “দুর্লভ মাটি” রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ থেকে সরে না আসে — চীনের প্রতিক্রিয়া স্বরূপ, তারা ঘোষণা করেছিল নতুন রপ্তানি বিধিনিষেধ আরোপ করবে যা প্রযুক্তিখাত ও শিল্পক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে রাখবে। চীন ইতোমধ্যে মার্কিন শুল্ক বাড়িয়ে দেওয়ার উত্তরে যুক্তরাষ্ট্র সংক্রান্ত জাহাজ শুল্ক এবং বন্দরের শুল্ক বৃদ্ধি করেছ যা মার্কিন পণ্যের পরিবহন খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে ।
এই উত্তেজনার বাজার প্রতিক্রিয়াও স্পষ্ট — শেয়ার বাজারে পতন ঘটে এবং চীনের স্থিতিশীলতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল; তবে বেশ কিছু ক্ষেত্রে চীনের প্রযুক্তি ও বিরল-রস (rare earth) খাত শক্তিশালী অবস্থান ধরে রাখছে । আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) ২০২৫ সালের বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস ৩.২% এ উন্নীত করেছে, তবে তারা সতর্ক করছে যে, ট্রেড ও শুল্ক উত্তেজনার পুনরুজ্জীবন অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে ২০২৬ ও ২০২৭ সালে যথাক্রমে ১.২ ও ১.৮ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন এই লড়াইকে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক ধাক্কা হিসেবে গ্রহণ করছে — তারা আশা করে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসন কিছু ছাড় দেবে। তারা বিশ্বাস করে, চীনের দীর্ঘ মেয়াদী উৎপাদন ও প্রযুক্তি ভিত্তির কারণে তারা টেকসই প্রতিরোধ গঠন করতে সক্ষম।




