যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়েছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। শুক্রবার দুপুরে শেষ হওয়া ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুনভাবে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় দুই দেশ। আজ শনিবার (১৮ অক্টোবর) কাতারের রাজধানী দোহায় দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধিদলের মধ্যে শান্তি সংলাপ শুরু হচ্ছে। এই সংলাপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে বলে জানায় জিও নিউজ।
এর আগে শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানায়, পাকিস্তানের সরকারি প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে দোহায় পৌঁছেছে এবং শনিবার আফগান প্রতিনিধিরা সেখানে যোগ দেবেন। তবে জিও নিউজের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা আজ সকালেই দোহার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সেনাবাহিনীর আইএসপিআর সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

18 Oct 2025 | Pic: Collected
পাকিস্তান-আফগান উত্তেজনার সূচনা হয় গত ৯ অক্টোবর রাতে। সে সময় কাবুলে বিমান অভিযান চালায় পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। অভিযানে নিহত হন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) শীর্ষ নেতা নূর ওয়ালি মেহসুদ ও তার সহকারী ক্বারি সাইফুল্লাহ মেহসুদসহ টিটিপির আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডার। এই হামলার জবাবে আফগান সেনারা ১১ অক্টোবর পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার সীমান্তবর্তী সেনা চৌকিগুলিতে পাল্টা আক্রমণ চালায়। এরপর দুই দেশের মধ্যে টানা চার দিন ধরে হামলা-পাল্টা হামলা চলতে থাকে।
পাকিস্তানের আন্তঃবিভাগীয় জনসংযোগ দপ্তর (আইএসপিআর)-এর তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতে প্রায় ২০০ জন তালেবান যোদ্ধা ও ২৩ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হন। পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে আন্তর্জাতিক মহলের চাপের মুখে ১৫ অক্টোবর ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দুই দেশ। তবে যুদ্ধবিরতির সময় শেষ হওয়ার আগেই নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়।
শুক্রবার দুপুরে যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তানি বিমানবাহিনী আফগানিস্তানের কান্দাহার ও পাকতিকা প্রদেশে বিমান হামলা চালায়। এতে প্রায় ৫০ জন নিহত ও দেড় শতাধিক আহত হয় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে। এই ঘটনায় নতুন করে ক্ষোভ সৃষ্টি হলেও অবশেষে রাতে কাবুল ও ইসলামাবাদ উভয় দেশ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হয়।
দোহায় অনুষ্ঠিতব্য শান্তি সংলাপকে ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের আশা, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার পথ তৈরি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র, কাতার, তুরস্কসহ বেশ কয়েকটি দেশ এই আলোচনায় মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এই সংলাপে সীমান্ত সুরক্ষা, নিরাপত্তা সহযোগিতা, ও সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় আসবে।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সাম্প্রতিক সংঘাত শুধু দুই দেশের জন্য নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলছে। তাই যুদ্ধবিরতি ও সংলাপ—এই দুই দিকেই আগ্রহী এখন আন্তর্জাতিক মহল। তবে শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে উভয় পক্ষ কতটা আন্তরিকভাবে চুক্তি মানতে রাজি হয় তার ওপর।



