নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের ওশেনসাইড এলাকায় শনিবার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যার আগে একটি ব্যস্ত শপিং মলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টার কিছু আগে লং বিচ রোডের একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়, যা মুহূর্তের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে পার্শ্ববর্তী দোকানগুলোতে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আগুনটি প্রথমে “AAA Vacuum Co.” নামের একটি ভ্যাকুয়াম দোকান থেকে শুরু হয়েছিল। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ABC7NY এবং NBC New York জানিয়েছে, আগুন দ্রুত ভয়াবহ রূপ নিলে আশপাশের ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে দোকান ফেলে রাস্তায় ছুটে আসেন। কয়েক মিনিটের মধ্যে পুরো স্ট্রিপ মল জুড়ে ঘন ধোঁয়া ছেয়ে যায় এবং আগুনের তীব্রতায় ছাদের টিন গলে পড়তে শুরু করে। জরুরি সেবা কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে, এতে অন্তত ১০টির বেশি ফায়ার ট্রাক অংশ নেয়।

19 Oct 2025 | Pic: Collected
দমকল বিভাগ জানিয়েছে, আগুন লাগার পর আশেপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়, যাতে আগুন আরও ছড়িয়ে না পড়ে। এক ঘণ্টারও বেশি সময়ের চেষ্টার পর আগুন আংশিক নিয়ন্ত্রণে আসে, তবে পুরোপুরি নির্বাপণ করতে মধ্যরাত পর্যন্ত সময় লেগে যায়। ঘটনাস্থলে ধোঁয়া ও তাপমাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে, কয়েকজন ফায়ারফাইটারকে অক্সিজেন সাপোর্ট নিতে হয়। সৌভাগ্যক্রমে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি, তবে একাধিক দোকান সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে নাসাউ কাউন্টি ফায়ার ডিপার্টমেন্ট।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুনের কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি, তবে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে এটি বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট অথবা ভেতরে থাকা কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির ত্রুটি থেকে ঘটতে পারে। দোকানগুলোর মালিকরা জানিয়েছেন, ঘটনার সময় দোকানে কর্মচারী ও কিছু গ্রাহক উপস্থিত ছিলেন, তবে দ্রুত সবাই নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। আগুনে অন্তত ছয়টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে একটি রেস্টুরেন্ট, একটি গিফট শপ, একটি ক্লিনিং সার্ভিস এবং একটি ইলেকট্রনিক স্টোর।
দমকল বাহিনীর প্রধান জোসেফ কেলি এক বিবৃতিতে বলেছেন, “এটি ছিল একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ও দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুন। আমাদের দল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে এবং সৌভাগ্যক্রমে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।” তিনি আরও জানান, ভবনের কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ায় এর কিছু অংশ ভেঙে পড়তে পারে—তাই আশপাশের এলাকা আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ এলাকাটি ঘিরে রেখেছে এবং পার্শ্ববর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে থাকতে পরামর্শ দিয়েছে।
অন্যদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘদিনের জমে থাকা পুঁজি ও পরিশ্রমের ফল মুহূর্তেই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে অনেকে গণমাধ্যমে আক্ষেপ করে বলেন। এক ব্যবসায়ী জানান, “আমার দোকানটা ২০ বছরের পুরনো। চোখের সামনে সেটি পুড়ে যেতে দেখাটা ছিল জীবনের সবচেয়ে কষ্টের মুহূর্ত।” স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং ফায়ার বিভাগ ও বীমা সংস্থাগুলো যৌথভাবে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করবে।
নাসাউ কাউন্টি পুলিশ বিভাগ ও ফায়ার মার্শালের দপ্তর যৌথভাবে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুনের উৎস চিহ্নিত করতে বৈদ্যুতিক তার, গ্যাস লাইন এবং সম্ভাব্য অগ্নিসংযোগের সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে, আগুনের কারণে এলাকায় ট্রাফিক বন্ধ হয়ে পড়ে এবং আশেপাশের বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ফায়ার ডিপার্টমেন্টের এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা আগুন ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে পেরেছি, না হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও ভয়াবহ হতে পারত।”
আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মালিকদের আর্থিক ক্ষতি কয়েক মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে প্রাথমিক অনুমান করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও কর্মীদের সাহায্যে একটি বিশেষ জরুরি তহবিল খোলা হতে পারে। এই ঘটনার পর এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা ও অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ফায়ার মার্শাল অফিস বলেছে, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে দোকানগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র, ধোঁয়া শনাক্তকরণ অ্যালার্ম এবং জরুরি নির্গমনপথ আরও শক্তিশালী করার নির্দেশনা দেওয়া হবে।
সবশেষ পাওয়া তথ্যানুসারে, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিতের কাজ চলছে। দমকল বাহিনী এলাকাটি পর্যবেক্ষণে রেখেছে যাতে আগুনের পুনরায় স্ফুলিঙ্গ না দেখা দেয়। স্থানীয় প্রশাসন ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, আগুন লাগার সময় দোকানে থাকা লোকজনের দ্রুত সরে যাওয়ার কারণে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ঘটনাটিকে স্থানীয়রা “দশকের সবচেয়ে ভয়াবহ বাণিজ্যিক আগুন” বলে উল্লেখ করেছেন।




