যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ক্যারিবীয় সাগরে একটি সাবমেরিনে হামলার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এই সাবমেরিনটি মাদক পাচারের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল এবং এতে থাকা দুইজন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এছাড়া, বেঁচে থাকা দুইজনকে তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। এই হামলার ঘটনা ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

19 Oct 2025 | Pic: Collected
হামলার পর, ট্রাম্প বলেন, “আমরা একটি মাদক বহনকারী সাবমেরিন ধ্বংস করেছি, যা যুক্তরাষ্ট্রের দিকে যাচ্ছিল।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “এই অভিযানে দুইজন নিহত হয়েছেন এবং দুইজনকে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।” তিনি এই হামলাকে মাদক পাচারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে তুলে ধরেন।
এই হামলার পর, কলম্বিয়া ও ইকুয়েডরের সরকার বেঁচে থাকা দুইজনকে তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো নিশ্চিত করেছেন যে, কলম্বিয়ান নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানো হবে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইকুয়েডরের সরকার এখনও তাদের নাগরিকের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
এই হামলার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নীতি ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মাদক পাচারকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করে এই ধরনের সামরিক হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হতে পারে। তাছাড়া, এই হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলার প্রতি কৌশলগত অবস্থানও স্পষ্ট হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এই ধরনের আগ্রাসন আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতি আঘাত।” তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা এই হামলার নিন্দা জানায়।
এই হামলার পর, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের সদস্যরা এই ধরনের সামরিক অভিযানের আইনি ভিত্তি ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা জানতে চেয়েছেন, এই ধরনের হামলার জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কিনা এবং এর ফলে আন্তর্জাতিক আইনের কোনো লঙ্ঘন হয়েছে কিনা।
এই হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মাদক পাচারকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করে সামরিক হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থান স্পষ্ট করেছে। তবে, এই ধরনের পদক্ষেপের আইনি ও নৈতিক দিক নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
এখন দেখার বিষয় হলো, এই হামলার পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কী পদক্ষেপ নেয় এবং এই ধরনের সামরিক হামলার ভবিষ্যত প্রভাব কী হতে পারে।




