আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতকে কঠোর হুমকির মুখে ফেলেছেন — তিনি জানিয়েছেন, যদি ভারত রাশিয়া থেকে তেল না কিনা বা বন্ধ না করে তাহলে আমেরিকা ভারতের দিকে “মহাপরিমাণের” শুল্ক চাপিয়ে দেবে।
তিনি বলেন, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মোদি তার সঙ্গে কথা বলে বোঝেছেন যে ভারত দ্রুত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ করবে। তবে ভারত সরকার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে যে এমন কোনো চুক্তি বা কথা হয়েছিল।

20 Oct 2025 | Pic: Collected
আমেরিকার প্রয়াসে, রাশিয়া-তেল কেনার কারণে বড় ধরনের শুল্ক আরোপ করেছে — ভারতীয় রপ্তানির উপর প্রায় ৫০ % শুল্ক বসানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ভারতের পক্ষে এ প্রযুক্তি একটি কঠিন পজিশন সৃষ্টি করেছে: একদিকে নিরাপদ ও সস্তা জ্বালানির প্রয়োজন রয়েছে, তাহলে দেশীয় জনসাধারণের ও শিল্পের চাহিদা মেটাতে রাশিয়া-তেল আমদানি একাধিক কারণেই গুরুত্বপূর্ণ।
ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি শুধুই অর্থনৈতিক নয়, কৌশলগত একটি রূপ নিয়েছে — দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশ করে আসছে নিরাপত্তা, সংযোগ ও রপ্তানিকেন্দ্রিক সহযোগিতা। মোদি সরকারের জন্য এখন অবস্থান গ্রহণ করা জটিল হয়ে পড়েছে — খুব বেশী চাপে পড়ে “স্বাধীন নীতি” বজায় রাখতে হবে, আবার আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়ছে।
এই হুমকির পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ রয়েছেঃ
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে, পশ্চিমা শক্তিগুলো রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানিকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। ভারতের কাছ থেকে রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ হলে সেটা রাশিয়ার আয় কমাতে সহায়ক হবে। আমেরিকা চায় ভারতের রপ্তানি ও আমদানিতে এক নতুন চুক্তি দেখতে, যেখানে ভারতকে আমেরিকার শর্ত মানতে হবে। ট্রাম্প এই সুযোগে ভারতকে চাপ দিচ্ছেন।
- ভারতের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভারতের অর্থনৈতিক ও জনসংখ্যাগত বাস্তবতা রাশিয়া-তেলের উপর নির্ভরশীলতা বাড়িয়েছে। তাই একদম হঠাৎ আমদানিতে রূপান্তর ঘটানো সহজ নয়।
- রাজনৈতিকভাবে, মোদি সরকার এখন ‘সুবিধাজনক’ অবস্থানে নেই — ভারতের বিরোধীরা বলবে, সরকার কেন বিদেশের চাপ মেনে নিচ্ছে। একই সঙ্গে, আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হলে উচ্চ প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও রপ্তানি-সাহায্য সংকট দেখা দিতে পারে।
মোদির প্রতিক্রিয়া ও ভারতের অবস্থান
মোদি সরকার ইতিমধ্যেই সাফ করেছে যে ভারতের আমদানির নীতি শুধুই দেশের নিরাপত্তা ও ভোক্তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নেয়। রপ্তানিতে হুমকি সত্ত্বেও ভারতisation — ‘স্বাধীন নীতি’ বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে। বিরোধীরা ইতিমধ্যেই ট্রাম্প-হুমকিকে মোদির কূটনীতির ব্যর্থতা হিসেবে দেখাচ্ছে।
দ্বন্ধপূর্ন চিত্র
উভয় পক্ষের জন্যই অসুবিধা রয়েছে—
- আমেরিকার পক্ষে: ভারতের মতো বৃহৎ শক্তিকে পুরোপুরি নিজেদের চাপে আনা সহজ নয়, এবং কৌশলগতভাবে ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- ভারতের পক্ষে: আমেরিকার চাপে নড়িয়ে পড়লে তার সার্বভৌম সিদ্ধান্ত-ক্ষমতা প্রশ্নবদ্ধ হবে, আর আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক বেজে গেলে অর্থনৈতিক সাপ্লায় চেইন ও নিরাপত্তা সহযোগিতার ওপর প্রভাব পড়তে পারে।
ভবিষ্যতের কার্যক্রমসমূহ
- ভারতের রপ্তানিতে শুল্ক বৃদ্ধির কারণে সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে নতুন বাজার ও বিকল্প সাপ্লায় চেইন খুঁজতে হবে।
- ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া — একটি স্থায়ী চুক্তি হলে, হঠাৎ এক-পক্ষীয় সিদ্ধান্ত বিদেশ নীতিতে ঝাপসা সৃষ্টি করবে।
- বিশ্ব পর্বে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও জ্বালানির পরিবর্তনশীল বাজারের কারণে ভারতের কৌশলগত অবস্থানও পরিবর্তনশীল হতে পারে।
- এই মুহূর্তে, ভারতের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক দুইস্বরূপ সত্যিই পাঠযোগ্যভাবে পরীক্ষার উত্তরে দাঁড়িয়েছে। একদিকে রয়েছে ট্রাম্পের হুমকি ও আমেরিকার চাপ, অন্যদিকে রয়েছে ভারতের নিজস্ব নীতি ও নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা। মোদি সরকারের সামনে রয়েছে একটি কঠিন সঙ্কট— কি তারা এ বিষয়টিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে, তা নির্ভর করছে তাদের বুদ্ধিচার ও কূটনৈতিক দক্ষতার ওপর।




