মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে “অবৈধ মাদক নেতা” আখ্যা দিয়ে দেশটির বিরুদ্ধে অর্থায়ন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। ১৯ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ পোস্টে পেত্রোর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, পেত্রো “সমগ্র কলম্বিয়াজুড়ে ব্যাপক মাদক উৎপাদনকে উৎসাহ দিচ্ছেন।” ট্রাম্প আরও বলেন, “পেত্রো অত্যন্ত অজনপ্রিয় ও দুর্বল নেতা। তিনি যদি নিজে মাদক উৎপাদন বন্ধ না করেন, তবে আমরা তা তার হয়ে বন্ধ করব এবং সেটা সুন্দরভাবে হবে না।” তিনি কলম্বিয়াকে দেওয়া অর্থায়নকে “পুরোপুরি প্রতারণা” বলে অভিহিত করেন। ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর কলম্বিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে, যা দেশটির সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট পেত্রোও এক্সে (আগের টুইটার) পোস্টে ট্রাম্পের মন্তব্যকে “অশোভন ও অজ্ঞ” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “কলম্বিয়া কখনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অশোভন আচরণ করেনি, বরং দেশটির সংস্কৃতিকে ভালোবেসেছে।”

20 Oct 2025 | Pic: Collected
এদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ১৭ অক্টোবর ক্যারিবীয় সাগরে একটি কলম্বিয়ান জাহাজে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়, যাতে তিনজন নিহত হয় বলে দাবি করেছেন। হেগসেথ দাবি করেন, জাহাজটি বামপন্থী বিদ্রোহী গোষ্ঠী ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (ইএলএন)-এর সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং এটি মাদক পাচারে জড়িত ছিল। তবে তিনি কোনো প্রমাণ দেননি। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট পেত্রো এক্সে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র আমাদের আঞ্চলিক জলসীমায় প্রবেশ করেছে, মিসাইল ছুড়ে একজন নিরীহ জেলেকে হত্যা করেছে এবং তার পরিবারকে ধ্বংস করেছে।” তিনি দাবি করেন, নিহত ব্যক্তি সান্তা মার্তা উপকূলের জেলে আলেহান্দ্রো কাররাঞ্জা, যার কোনো মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল না। পেত্রো বলেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছ থেকে ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করছি। এটি একেবারে হত্যাকাণ্ড এবং আমাদের সার্বভৌমত্বের ঘোরতর লঙ্ঘন।” তিনি কলম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলকে বিষয়টি আন্তর্জাতিক আদালত এবং যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে উত্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন।
ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে ওয়াশিংটন-বোগোতার সম্পর্ক ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। গত মাসে ট্রাম্প প্রশাসন পেত্রোর যুক্তরাষ্ট্র ভিসা বাতিল করে দেয়, কারণ তিনি নিউইয়র্কে এক ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে অংশ নিয়ে মার্কিন সেনাদের ট্রাম্পের নির্দেশ অমান্যের আহ্বান জানিয়েছিলেন। পেত্রো তখন বলেন, “আমি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের বলি — মানবতার বিপরীতে অস্ত্র ধরো না, ট্রাম্পের অন্যায় আদেশ অমান্য করো।”
এই পরিস্থিতিতে কলম্বিয়ার জনগণ ও আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের এই অবনতি শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে না, বরং দক্ষিণ আমেরিকার নিরাপত্তা ও মাদক নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সাম্প্রতিক এই উত্তেজনার মধ্যে, কলম্বিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক কেমন হবে, তা সময়ই বলে দেবে।




