নিউইয়র্ক সিটি মেয়র নির্বাচনের আগেই শহরের রাজনীতিতে নতুন মোড়—বর্তমান মেয়র এরিক অ্যাডামস প্রকাশ্যে প্রাক্তন গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমোকে সমর্থন দিয়েছেন। এই সমর্থন ঘোষণার ফলে শহরের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচনে কুওমো নিজেকে একজন “অভিজ্ঞ ও বাস্তববাদী নেতা” হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছেন, যিনি নিউইয়র্ককে আবার স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার পথে ফিরিয়ে আনতে পারবেন। অন্যদিকে, অ্যাডামসের এই সমর্থন অনেকের কাছে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে, কারণ কুওমোর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছেন জামাল মামদানি, যিনি একজন প্রগতিশীল রাজনীতিক ও মুসলিম আইনপ্রণেতা হিসেবে সম্প্রতি জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। তবে নিশ্চিত সূত্রে জানা গেছে, মামদানি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নন, তিনি উগান্ডা থেকে আসা ভারতীয় বংশোদ্ভূত পরিবারে জন্মেছেন এবং নিউইয়র্কেই বেড়ে উঠেছেন।

24 Oct 2025 | Pic: Collected
অ্যাডামস এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “নিউইয়র্ক আজ কঠিন সময় পার করছে। আমরা এমন নেতৃত্ব চাই যিনি শহরের চ্যালেঞ্জগুলো বাস্তবভাবে মোকাবিলা করতে জানেন, আর আমি বিশ্বাস করি অ্যান্ড্রু কুওমো সেই নেতা।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি নিজে শহরের সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক স্থিতি রক্ষায় কাজ করেছি, এখন চাই অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক।”
কুওমো, যিনি ২০২১ সালে যৌন হয়রানির অভিযোগের মুখে গভর্নর পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন, এখন জনসমর্থন পুনরুদ্ধারে চেষ্টা করছেন। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, তিনি এখনও নিউইয়র্কবাসীর একাংশের কাছে জনপ্রিয়। অন্যদিকে, মামদানি সামাজিক ন্যায়বিচার, সাশ্রয়ী বাসস্থান ও পুলিশ সংস্কারের পক্ষে কথা বলছেন, যা তরুণ ভোটারদের মধ্যে তাকে শক্ত অবস্থানে রেখেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, অ্যাডামসের এই সমর্থন নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ বর্তমান মেয়রের অবস্থান শহরের মধ্যবিত্ত ও প্রভাবশালী ভোটারদের মধ্যে শক্তিশালী। তবে অনেকেই মনে করছেন, কুওমোর অতীত বিতর্কগুলো তার জন্য এখনও বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
নিউইয়র্কের রাজনীতি সবসময়ই নাটকীয় মোড়ে ভরপুর, আর এবার অ্যাডামস-কুওমো জোট সেই নাটককে আরও তীব্র করেছে। এখন দেখার বিষয়, ভোটাররা কি অভিজ্ঞতা ও স্থিতিশীলতাকে বেছে নেবে, নাকি নতুন প্রজন্মের প্রগতিশীল পরিবর্তনের ডাককে সাড়া দেবে।




