António Guterres, United Nations-এর সাধারণ সম্পাদক, সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় বলেন যে, বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য গঠিত United Nations Security Council (ইউএনএসিসি) আজকের পৃথিবীর বাস্তবতা ও চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় — বরং এটি এমন এক মধ্যযুগীয় কাঠামো বহন করছে, যা “১৯৪৫-এর বিশ্ব” প্রতিফলিত করে, “২০২৫-এর বিশ্ব” নয়। তিনি জানান, পরিষদের গঠন, সদস্যদের নির্বাচন এবং স্থায়ী সদস্য-ভেটো সিস্টেম আজও ৭০ বছরের পুরনো নিয়মে চলছে, ফলে বৃহত্তর অংশবিশ্ব, বিশেষ করে আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকা ও এশিয়ায় প্রতিনিধিত্বগত ঘাটতি রয়েছে। এই ব্যবস্থার কারণে পরিষদের কার্যক্ষমতা ও বৈধতা দুটোই প্রশ্নের মুখে পড়েছে। গুতেরেস বলেন, “যদিও ইউএনএসিসি শান্তি ব্যবস্থাপনায় মুখ্য ভূমিকা রাখে, তবে আজ আমরা দেখছি—এর প্রতিনিধিত্বই প্রায় নেই, সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি।”

28 Oct 2025 | Pic: Collected
তিনি জোর দিয়ে বলেন, যে কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পরিষদের ধীরগতির কাজ, স্থায়ী সদস্যদের ভেটো ক্ষমতা ও অংশ-বিশ্বের অবহেলা আজ বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন যে, বর্তমানে ইউএনএসিসির অযোগ্যতা ও অনুপযুক্ত প্রতিনিধিত্বের কারণে এটি বিশ্বব্যাপী দুইয়ের মধ্যে পড়েছে—বা তো কার্যকর নয় বা শুধু প্রতীকী। গুতেরেসের মতে, পূর্ণ সংস্কার ছাড়া ইউএনএসিসি আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবে না—উদাহরণস্বরূপ, হাইব্রিড যুদ্ধ, খাদ্য সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দুর্ব্যবহার। তিনি অগ্রাধিকার দিয়েছেন অংশবিশ্বের ওপর যে “জান না-শোনা ভয়” রয়েছে—নিরাপত্তা পরিষदులో তাদের শুধু শূন্য মঞ্চ দেওয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি এও উল্লেখ করেছেন যে, আফ্রিকা মাত্র এক স্থায়ী চেয়ার ও কয়েকটি অস্থায়ী সিট পায়, অথচ মানবসংখ্যায় ও সংঘর্ষের সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি এ অঞ্চলে।
বড়ো দেশ-শক্তিযুক্ত দেশগুলো এখনও পুরনো বৈশ্বিক শাসন কাঠামোর যাদুঘরে আবদ্ধ রয়েছে বলেই গুতেরেসের দাবি। তিনি বলেন, “এই পরিষদ যদি আজ কার্যকর হতে চায়, সেক্ষেত্রে এটি অবশ্যই প্রতিনিধিত্বীয় হতে হবে—এটি শুধু শক্তিধর দেশগুলোর দৃষ্টিকোণ থেকে কাজ করবে না।” সভাপতি হিসেবে বলেছেন, আগামী বছরের মধ্যে পরিষদের সদস্যবিন্যাস, ভেটো ক্ষমতা ও সিদ্ধান্তপ্রক্রিয়া পুনর্বিন্যাসের প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। ইউএন একাধিক আলোচনা শুরু করেছে, যার মধ্যে রয়েছে নতুন রাষ্ট্রীয় ব্লক গঠন, আফ্রিকার স্থায়ী সদস্যতা এবং ইউরোপ-উত্তর আমেরিকার অতিরিক্ত চেয়ার। এমনকি গুতেরেস বলছেন, যদি দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া না হয়, তাহলে পরিষদের “বিশ্বাসযোগ্যতা ক্রমাগত ক্ষয়” পাবে, যা শুধু সংস্থা নয়, সমগ্র বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক।
এই বক্তব্যের পর অনেক দেশ তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে—আফ্রিকার ইউনিয়ন, ল্যাটিন আমেরিকার দেশসমূহ ও এশিয়ার কিছু দেশ বলেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রতিনিধিত্বে পিছিয়ে রয়েছে। ইউএন নিরাপত্তা পরিষদে তারা শুধুই ‘ভিজিটিং অতিথি’-র মতো অবস্থায় রয়েছেন। এটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিবেশে নতুনভাবে আলোড়ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি শুধুই বিশ্লেষণমূলক নয়—এটি বাস্তব পরিবর্তনের ডাক। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পরিষদের ক্ষমতা ও কাঠামো নিয়ে গ্লোবাল নির্বাচন ও রাজনৈতিক আলোচনায় তা প্রধান অঙ্গ হয়ে উঠবে।
উপসংহার হচ্ছে, আজ গুতেরেসের বক্তব্য স্পষ্ট সুসংবাদ নয়, বরং একটি সতর্কবার্তা—বিশ্ব যদি ২০২৫ এবং পরবর্তী দশকে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে চায়, তাহলে ইউএন সংশ্লিষ্ট কাঠামোকে আজকে বদলাতে হবে। প্রতিফলিত হতে হবে কেবল শক্তিকে নয়, মানুষকে। প্রতিফলিত হতে হবে পুরনো যুদ্ধজগতকে নয়, আজকের আন্তঃনির্ভর বিশ্বের চোখকে।



