যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার এক সম্মেলনে দাবি করেছেন, চলতি বছরে ভারত ও পাকিস্তান-এর মধ্যে বড় ধরনের সশস্ত্র সংঘর্ষ এড়াতে তিনি দুই দেশকে সতর্ক করে বলেছিলেন যে, যদি যুদ্ধ অব্যাহত রাখেন তাহলে আমেরিকা তাদের এক-এক দেশের উপর ২৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে।

30 Oct 2025 | Pic: Collected
ট্রাম্প বলেন, “ভারত ও পাকিস্তান দেখুন… তারা একসঙ্গে যাচ্ছিল। সাতটি যুদ্ধবিমান গুলি খেয়েছে… আমি ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করেছিলাম, বলেছিলাম– আমরা আপনার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি করব না যদি আপনি যুদ্ধ চালিয়ে যান।”
তিনি আরও বলেন, “আমি বলেছিলাম, আমি প্রতি দেশের জন্য ২৫০ % শুল্ক বসাবো, যা মানে হলো আপনি আর ব্যবসা করতে পারবেন না… এই হুমকিতে তারা বোধ করে দুই দিনের মধ্যে যুদ্ধ থামিয়ে ফেলেছে।”
এই মন্তব্যের পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রক ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম একসাথে এ দাবি সম্পূর্ণ রূপে অস্বীকার করেছে। ভারতীয় অধ্যুষিত অংশ বলেছে, কোনো ট্রেড বা মধ্যস্থতা-চুক্তি হয়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য কূটনৈতিকভাবে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। কারণ এটি দুই পারমাণবিক ক্ষমতাসম্পন্ন দেশের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের এমন হট ভেবিহেভ হুমকি প্রতিফলিত করে, যা আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, তিনি এই হুমকির মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন। তবে ভারত ও পাকিস্তানের অফিসিয়াল সূত্র এ ধরনের যুক্তরাষ্ট্রীয় উৎসাহ বা হস্তক্ষেপের কোনো তথ্য স্বীকার করেনি। এই কারণে এই দাবি এখন বিতর্কের হয়রানিতে পড়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও কূটনৈতিক অঙ্গনে মার্কিন নীতি উল্লেখযোগ্যভাবে প্রতিফলিত হয়েছে, যেখানে শুল্ক আধিপত্যাধিকরণের কৌশল প্রকাশ পেয়েছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য তার দ্রব্যমূল্য-রক্ষার নীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রথম’ মনোভাবের প্রতিফলন।
উপসংহারে, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি এবং তার দাবি–কিন্তু দুই দেশের পক্ষ থেকে তা অস্বীকার–এই মিলিত প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে, ভারত-পাকিস্তান অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে এনে দিয়েছে।



