নাইজেরিয়ার খ্যাতিমান লেখক ও ১৯৮৬ সালে সাহিত্য ক্ষেত্রে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত Wole Soyinka’র প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একটি আকস্মিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে — যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বাতিল করা হয়েছে তাঁর। তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্ত তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া “সাম্প্রতিক মন্তব্য” ও বিতর্কবহুল বিবৃতি-র প্রতিক্রিয়া হতে পারে।

30 Oct 2025 | Pic: Collected
Soyinka ৯১ বছর বয়সী; তিনি আফ্রিকার প্রথম সাহিত্য নোবেলজয়ী হিসেবে পরিচিত। মঙ্গলবার তিনি লগোসে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ২৩ অক্টোবর তার কাছে নটিশ এসেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের বিক্রান্সুলেট-এর চিঠিতে বলা হয়েছে, “আপনাকে আপনার ভিসা ও পাসপোর্ট সঙ্গে নিয়ে আসতে হবে যাতে তা শারীরিকভাবে বাতিল করা যায়।”
ভিসা বাতিলের ঠিক কারণ তালিকাভুক্ত করা হয়নি; চিঠিতে কেবল উল্লেখ রয়েছে—“ভিসা ইস্যু হওয়ার পর অতিরিক্ত তথ্য সামনে এসেছে।” Soyinka বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন তাঁর এক মন্তব্য—Trump-কে Ugandan ডিক্টেটর Idi Amin-এর সাদৃশ্য বলা—এই সিদ্ধান্তে ভূমিকা থাকতে পারে।
উল্লেখ্য, Soyinka এর আগে ২০১৭ সালে তার ইউএস গ্রিন কার্ড নিজে ধ্বংস করেছিলেন, Trump-এর নির্বাচনপ্রচারণার প্রতিক্রিয়ায়। তিনি বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে কাজে ব্যবহার করব না, তবে বিষয় হলো মানুষ মর্যাদাপূর্ণভাবে আচরণ পায় কিনা।” তিনি বলছেন তিনি আর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাওয়ার কোনো আগ্রহ দেখছেন না।
এই ঘটনা নির্দেশ করছে—ভিসা বাতিল নীতিতে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে কঠোর ভূমিকা গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে Trump প্রশাসনের অধীনে, এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন বা কূটনৈতিক নীতিকে চ্যালেঞ্জ করেছেন, তাদের প্রতি নজর বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, Soyinka-র ভিসা বাতিলের ঘটনা শুধু এক ব্যক্তির নয়, বরং বিশ্বসাহিত্য, মানবাধিকার-কথক ও আন্তর্জাতিক স্বাধীন মতপ্রকাশের ওপর একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। তারা বলছেন, “যদি এমন বার্তা যায় যে রাজনৈতিকভাবে বিরোধী-আছে দেশগুলোর বিরুদ্ধে ভিসা দিয়ে রেয়াত দেওয়া হবে না”, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের শব্দ-স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
উপসংহারে বলা যায়, Wole Soyinka-র ভিসা বাতিল হলো এক চিহ্ন, যেখানে বিশ্বসাহিত্য ও রাজনৈতিক প্রতিমার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তরিক সম্পর্ক এখন নতুন প্রশ্নের মুখে।



