কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার অ্যাবট্সফোর্ডে সোমবার সকালে খুন হন ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রতিষ্টিত শিল্পপতি Darshan Singh Sahsi (৬৮)। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তার বাড়ির বাহিরে গাড়িতে ওঠার সময় হামলাকারীরা গুলি করে পালিয়ে যায়। Royal Canadian Mounted Police (RCMP) তরফে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
হত্যার সঙ্গে দায় স্বীকার করেছে লরেন্স বিষ্ণোয়ি বান্ড। একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বান্ডের সদস্য Goldy Dhillon দাবি করেন, “সাহসি আমার কাছে প্রোটেকশন মানি দিতে রাজি হয়নি। তাই তাকে মেরে ফেলা হয়েছে।” তবে নিহত শিল্পপতির কাছ থেকে কোন হুমকি বা চাঁদাবাজির চিঠি পাওয়ার কথা RCMP বা পরিবার এখনো স্বীকার করেনি।

30 Oct 2025 | Pic: Collected
দরশন সিং সাহসি ছিলেন লুধিয়ানার রাজগড় গ্রামের বাসিন্দা। ১৯৯১ সালে তিনি কানাডায় পাড়ি জমান এবং অকেটো কাজের পর নিজ উদ্যোগে টেক্সটাইল রিসাইক্লিং শিল্প গড়ে তোলেন। তাঁর কোম্পানি Canam International বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খালি কাপড় রিসাইক্লিং করে। হাতের থেকে যা যায়, সেটি তাঁর কোম্পানিতে হাজার হাজার কর্মীর’emploi ছিল। তিনি সামাজিক কাজেও সক্রিয় ছিলেন।
হত্যার দিন সকাল সাড়ে নয়টার দিকে সাহসি গাড়িতে উঠছিলেন, তখনই হামলাকারীরা গাড়ির পাশ থেকে গুলি চালায়। গাড়িতে ঢুকেই তিনি মৃতপ্রায় অবস্থায় রয়েছেন। স্থানিকভাবে তিনটি স্কুলকে নিরাপত্তার কারণে লকডাউন করা হয়।
এই হত্যার ঘটনার পর স্থানীয় কমিউনিটিতে দোভাষী মাদক সঙ্কট ও অপরাধ-গ্রুপের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে এই ঘটনার আগেই কানাডা সরকার বিষ্ণোয়ি গ্যাংকে আতঙ্কভ্রষ্টকারী সন্ত্রাসি সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হত্যা শুধু একটি একক ঘটনা নয়—এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আন্তর্জাতিক অপরাধ-সyndicate-র ক্রিয়া শুধু এক দেশে সীমাবদ্ধ নেই। কেউ যেন নিরাপদভাবে রয়ে যেতে পারেনা, এমন বার্তা হলো। কানাডা-কানাডীয় ভারতীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
হত্যার তদন্তে RCMP ফেডারেল পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। হত্যাকারীর গাড়ি, গুলির খোলস এবং ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ চলছে। তবে এখনো কোনো সন্দায়ী গ্রেফতার হয়নি। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, সাহসি নিয়মিত গাড়িতে যেতেন এবং বাড়ির বাইরে নিরাপত্তা ছিল স্বাভাবিকভাবে। দ্রুত নিশ্চয়তা দিতে পুলিশ মেয়াদ বাড়িয়েছে।
নিহত শিল্পপতির পরিবার-পরিচালিত কোম্পানির এক ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছেন, কোম্পানির কাজ নিয়মমাফিক ছিল এবং তারা হঠাৎভাবে কোনো চাঁদাবাজির মুখে পড়েননি বলে তাঁরা বিশ্বাস করেন। তবে কে বা কারা এই হামলা চালিয়েছে- তা খোলাসা হয়নি। বান্ডের দাবিকারক পোস্টটি সামাজিক মাধ্যমে মুছে ফেলা হয়েছে।
উপসংহারে বলা যায়, এই হত্যাকাণ্ড শুধু কানাডার অভিবাসী-সম্প্রদায়ের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ও সায়ব-নেটওয়ার্ক-র প্রসঙ্গে একটি বড় সতর্কবার্তা। যার প্রতিক্রিয়া শুধু স্থানীয় পুলিশ নয়, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থা ও ভারত-কানাডা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের দৃষ্টিকোণ থেকেও দেখা হচ্ছে।



