পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী Khawaja Asif গত ২৯ অক্টোবর সংবাদমাধ্যমকে একটি তিক্ত বক্তব্য দেন। তিনি দাবি করেন, Afghanistan “ভারতের পুতুল নীতিমালায় নিয়ন্ত্রিত দেশ” হয়ে উঠেছে এবং ভারতের চান্সাশিয়াসুক্ত ভাবে আফগান সরকারকে ব্যবহার করছে, যা পাকিস্তানের জন্য স্পষ্ট হুমকি।

30 Oct 2025 | Pic: Collected
আসিফ তার বক্তব্যে বলেন, “কাবুলে যারা সম্মেলন বা আলোচনায় বসে আছেন, তারা ভারতের নির্দেশে কাজ করছেন। ভারত পশ্চিম সীমান্তে হেরে গিয়ে আফগানিস্তান ব্যবহার করছে। আফগান কর্তৃপক্ষ বাস্তব নিয়ন্ত্রণে নেই—তাদের নিয়ন্ত্রণ করছে ভারত।”
তিনি আরও বলেন, যদি আফগানিস্তান পাকিস্তান-এর বিরুদ্ধে কোনো হামলা চালায়, তাহলে পাকিস্তান ‘৫০ গুণ বেশি শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া’ দেবে।
এই মন্তব্যগুলো আসে তখন, যখন পাকিস্তান-আফগানিস্তান বন্ধনী আলোচনা সিরিজ একটি কঠিন অবস্থা ভোগ করছে। দু’দেশের মধ্যে শান্তিচুক্তি আলোচনা পড়ে গেছে — কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে আলোচনায় কয়েকবার আফগান প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে পেছনের দিকে সরে যাওয়া হয়েছে।
আফগান বিদেশ মন্ত্রী Amir Khan Muttaqi ইতিমধ্যে এই অভিযোগগুলোকে ‘বেসিক’ বলে নিন্দা করেছেন ও বলেন, “আফগানিস্তান ইন্ডিয়া-এর কোনো হাতের খেলনা নয়। আমরা স্বাধীনভাবে কাজ করি।”
এই সব বিবাদ ও অভিযুক্ত মন্তব্য উত্তর দিয়ে দিচ্ছে যে, দক্ষিণ এশিয়ার এই অঞ্চলে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক একবারে জটিল হয়ে উঠেছে। শুধু সীমান্ত উত্তেজনা নয়—এখানে মতপ্রকাশ, রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, বাহ্যিক প্রভাব ও প্রতিফলন-সবই জড়িত।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আসিফের দাবি শুধু খবরের শিরোনাম হবে না। এটি পাকিস্তান-ভারত-আফগানিস্তান এই ট্রায়াঙ্গলে ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস ও নতুন জিওপলিটিক্যাল চ্যালেঞ্জের প্রতীক। ভারত ইতিমধ্যে আফগান সরকারের সঙ্গে উন্নয়ন ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বাড়াচ্ছে — যেমন বিম্বর্তভাবে ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে আফগানিস্তানে ভারতের দূতাবাস পুনরায় চালু করার কথা।
তবে এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে প্রশ্ন উঠছে—আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব, ভারতের ভূমিকা ও পাকিস্তানের উপর হামলা-হুমকির পার্থক্য। পাকিস্তানের এই রূপক দৃষ্টিভঙ্গা আফগানিস্তান-এর প্রতি ভারতীয় সংযুক্ততা বা প্রভাব এভাবে দেখছে যে, তারা দেশটিকে “হাতের পুতুল” হিসেবে অভিহিত করছে।
উপসংহারে, এই সঙ্কট আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে যে সীমান্তসংলগ্ন দেশগুলোর মধ্যে কেবল ভালো বা রূঢ় রাজনৈতিক সম্পর্ক নয়,—মনোবল, বিশ্বাস ও আলোচনার মাধ্যমে তুলনায় শাসনযোগ্যতা, স্বায়ত্তশাসন ও আন্তর্জাতিক নীতি বজায় রাখা নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।



