নিউ ইয়র্ক সিটিতে মেয়র নির্বাচনের লড়াইতে একাধিক বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে এবং এক তরুণ প্রগতিশীল নেতা, একদম অপ্রত্যাশিতভাবে, এই লড়াইয়ে এখন শীর্ষে রয়েছেন — তিনি হলেন Zohran Mamdani, যিনি শুধুই ৩৩ বছর বয়সী অ্যাসেম্বলি সদস্য এবং গত জুনে ডেমোক্র্যাটিক প্রাথমিক নির্বাচনে প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রাক্তন গভর্নর Andrew Cuomo-কে হারিয়ে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন।এই অবস্থা সাধারণ জনগণের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার কারণ হয়েছে — কেন এই অল্প অভিজ্ঞ নেতা এত দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছেন এবং তাঁকে সমর্থন করছেন কেন? উত্তর অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে একাধিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, মমদানির প্রতিশ্রুতি এবং শাসনধারা পুরনো নয় — তিনি দাবি করছেন একটি “সাশ্রয়ী /অস্তিত্ববানাক্ত নিউ ইয়র্ক” গঠন করবেন, যেখানে ভাড়া স্থবির হবে, বাস রফতানে সাশ্রয়ী হবে, এবং নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য অধিক সুযোগ হবে। তাঁর এই আগ্রাসী সামাজিক নীতি আনতে চাওয়া একদিকে বর্ধিত ব্যয় এবং কর বৃদ্ধির সঙ্গে জড়িত হলেও, অনেক ভোটার মনে করছেন—দাম বাড়ছে, সামর্থ্য কমছে, সময় বদলেছে এবং পরিবর্তন জরুরি। দ্বিতীয়ত, মমদানি ভ্যাট-বিরোধী ধাঁচের নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন — তরুণ, শোঁচনীয় (charismatic), এবং সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয়; তিনি সম্প্রদায়ভিত্তিক প্রচারণায় সাফল্য পান বিশেষ করে কুইন্স ও দক্ষিণব্রঙ্কসের কাজী-সংঘ এলাকায়। তৃতীয়ত, তার প্রতিদ্বন্দ্বীর গোষ্ঠায় বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে—আমরা দেখেছি যে গুপ্তভাবে কেন্দ্রীয় দল এবং জীববৃদ্ধি সংস্থাগুলো এই নির্বাচনে সচেতন হয়ে পড়ে গেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, মমদানির এই সাফল্য শুধু তাঁর ব্যক্তিগত কৌশলের ফল নয়, বরং নিউ ইয়র্কের সদ্য-উদ্ভূত রাজনৈতিক মেজাজের প্রতিফলন।

1 Nov 2025 | Pic: Collected
একাধিক জরিপে দেখা গেছে মমদানি এখন সাধারণ ভোটারদের মনে বেশ দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে — একটি লাইভ রিপোর্ট অনুযায়ী তার জয়লাভের সম্ভাবনা প্রায় ৭৪ শতাংশ পর্যন্ত দেখানো হয়েছে, যেখানে বর্তমান মেয়র Eric Adams ১৯ শতাংশের একটু বেশি মাত্র।এছাড়া, বিশেষ করে লিবারেল ও ইমিগ্রেন্ট ভোটারদের মধ্যে মমদানির জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়েছে। বড় ধরণের রাজনৈতিক বদলের আগ্রহ সেখানে স্পষ্ট। আর এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে, রাজনৈতিক এলিটরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে যে এই তরুণ নেতা পুরনো ধাঁচের নীতিতে প্রতিযোগিতা করতে চলেছেন না।
মমদানির এই লড়াই শুধু ভোট সিংহভাগ জয়লাভ নয়— এটি একটি আইডিয়োলজিকাল লড়াই, যেখানে তিনি নিজেকে ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট হিসেবে উত্থাপন করেছেন এবং অধিক অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার, সহজবাস, গ্রাসরুটস আন্দোলন এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের কথা বলছেন। তিনি সামাজিক মিডিয়া ও অনলাইন প্রচারণায় নতুন কৌশল প্রয়োগ করেছেন—ট্র্যাডিশনাল রাজনৈতিক প্রচারণার বাইরে গিয়ে স্বল্পবয়সী ভোটার, শ্বেতাঙ্গ-মিনোরিটি ভোটার ও ইমিগ্রেন্ট ভোটারের মনে জায়গা তৈরি করেছেন। বিষয়টি একদম নেতৃত্ব বদলের দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তবে এই সাফল্যের সঙ্গে একাধিক চ্যালেঞ্জও রয়েছে। মমদানির অভিজ্ঞতার অভাব, বড়-বাসনার বাড়তি জনপ্রিয় নীতিগুলোর বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এছাড়া, তিনি ইসরায়েলের বিষয়ে দেয়া বিতর্কিত বক্তব্যের কারণে সমালোচনায় পড়েছেন—একাধিক সার্বিক বিশ্লেষণ দেখাচ্ছে তিনি “ইসরায়েল একটি ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে জ্ঞাত নয়” এমন মন্তব্য করেছেন, যা কিছু অংশের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সেই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে একাংশের মধ্যে চিন্তা রয়েছে যে মমদানির দ্রুত উত্থান কি দলে অভ্যন্তরীণ বিভাজন তৈরি করবে—মেরু থেকে মধ্যপন্থী ব্রিগেড পর্যন্ত সকলেই এখন হিমশিম খাচ্ছে।
তাহলেও, মমদানির প্রার্থীতা এমন এক সময়ে এসেছে যখন নিউ ইয়র্ক সিটি চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে—উচ্চ ভাড়া, ঘনবসতি, বাস পরিবহনের খরচ, সামাজিক অসমতা, এবং উত্তরবঙ্গ-দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে বণ্টনের মত বিষয়গুলো ভোটারের মধ্যে প্রবল উদ্বেগের কারণ। মমদানি এসব প্রশ্ন সরাসরি উপস্থাপন করেছেন, এবং তার প্রচারণার মূল প্রতিশ্রুতি হয়েছে “নিউ ইয়র্ক যেখানে সাধারণ মানুষ থাকবে, লোয়ার ইনকাম হবে অমানুষিক চাপ থেকে মুক্ত”। আর সেই প্রতিশ্রুতি অনেক আমেরিকান-নিউ ইয়র্কবাসীর মনে সাড়া দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন—এই নির্বাচনের ফলাফল শুধু সিটির জন্য নয়, জাতীয় রাজনীতির জন্যও বড় হবে। এক তরুণ সোশ্যালিস্ট নেতা প্রেসিডেন্সিয়াল পার্থক্যও প্রভাবিত করতে পারে বলেই মনে করছেন তারা।এছাড়া, মমদানির বিপক্ষে যে বড় অর্থনৈতিক গ্রুপ ও রাজনৈতিক এলিটরা আছে, তারা এখন এককভাবে কার্যকরভাবে ঐক্যবদ্ধ করতে পারেনি। এর ফলে মমদানির পথ কিছুটা খোলা দেখা যাচ্ছে। তবে, পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন (নভেম্বর) এখনও রয়েছে এবং মমদানি আগামী দিনে কীভাবে তার ভোটার ভিত্তি মজবুত করবে ও বাস্তবায়নযোগ্য নীতি উপস্থাপন করতে পারবে—সেই বিষয় নজরে থাকবে।
উপসংহারে বলা যায়, নিউ ইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে মমদানির এগিয়ে থাকার কারণগুলো নিম্নরূপ: মূল রাজনৈতিক ধারা থেকে এক নতুন পালকে মানবকল্যাণমূলক, নিম্নআয়ের ভোটার-কেন্দ্রিক নীতিতে মনোনিবেশ করছেন তিনি; তরুণ ও ইমিগ্রেন্ট ভোটারের মধ্যে উত্তরাধিকারহীন তাড়নায় জনপ্রিয়তা পাচ্ছেন; এবং তার বিপক্ষে ঐতিহ্যবাহী শক্তি ও মধ্যপন্থী দল এখন বিভাজিত অবস্থায় রয়েছে। তবে বড় প্রশ্ন হলো—এই জনপ্রিয়তা কী বাস্তব ক্ষমতায় রূপান্তরিত হবে? নির্বাচনের দিন এসে দেখাবে।




