যুক্তরাষ্ট্রে এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে Donald J. Trump-এর প্রশাসনের এক নির্বাহী আদেশের একটি মূল অংশকে স্থায়ীভাবে আটকে দিয়েছেন ফেডারেল বিচারক Colleen Kollar‑Kotelly, যিনি ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের জেলা আদালতে (U.S. District Court) সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে প্রেসিডেন্ট ভোট-নিবন্ধনের জন্য ভোটারদের নাগরিকত্ব প্রমাণ দেয়ার বাধ্যতামূলক শর্ত আর আইনসিদ্ধ নয়। এই নির্দেশনা ছিল ২০২৫ সালের মার্চে ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত একটি নির্বাহী আদেশের অংশ, যেখানে গ্রাহক দেখাতে হতো যেমন পাসপোর্ট বা দেশের নাগরিকত্ব সনদ-রহনকারী ডকুমেন্ট ভোট দেয়ার আগে। আদালতের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সংবিধানে ভোট পরিচালনার বিষয় রাজ্য ও কংগ্রেসের বহিঃপ্রশাসনিক ক্ষমতা দেওয়া আছে, প্রেসিডেন্টের একক নির্দেশে এসব পরিবর্তন আনা আইনসিদ্ধ নয়।”
বিষয়টি ছিল যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ২৫ মার্চ ২০২৫-এ জারি করা নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছিল যে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন সংস্থা বা ফেডারেল ভোটার নিবন্ধন ফর্ম পরিবর্তন করতে হবে যাতে ভোটারদের নাগরিকত্ব প্রমাণের খতা দেওয়া হয়; এই অংশই আদালতে মামলা হয়। মামলাকারীদের মধ্যে ছিল Democratic National Committee, League of Women Voters ও League of United Latin American Citizens। আদালতে যুক্তি দেওয়া হয়, এই ধরণের শর্ত বাস্তবায়িত হলে লাখ লাখ ভোটার, বিশেষ করে যারা জন্মসূত্রে দেশীয় হলেও প্রয়োজনীয় পাসপোর্ট বা নাগরিকত্ব সনদ রাখেন না—তারা ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে।
বিচারক কোলার-কোটেলি লিখেছেন, “আমাদের সংবিধান কংগ্রেস এবং রাজ্যগুলোকে — প্রেসিডেন্টকে নয় — ভোট ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় কর্তৃত্ব দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট একপক্ষে জনগণের নাগরিকত্ব প্রমাণের শর্ত নতুন করে চাপিয়ে দিতে পারবেন না।” সিদ্ধান্তে বলা হয়, এ আদেশের ওই অংশ রদ করা হয়েছে যা ভোটার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব প্রমাণ বাধ্যতামূলক করেছিল, যদিও আদেশের অন্য অংশ যেমন মেইল-ইন ব্যালট প্রাপ্তির সময়সীমা সংক্রান্ত নির্দেশ বা ভোটার তথ্য শেয়ারিং বিষয় আদালতে প্রতিহত হয়নি।

1 Nov 2025 | Pic: Collected
আইনজ্ঞরা বলছেন এটি শুধু একটি একক ভুল নয়, বরং গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের মূলনীতির ওপর বড় অভিঘাত দাঁড় করিয়েছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে ভোটাধিকার নিয়ে বহু আলোচনায় এসেছে যে কোনো বার পাওয়া গেছে যে অবৈধভাবে নাগরিকত্ববিহীনরা ভোট দিচ্ছেন এমন বড় সংখ্যা নেই, তবে ভোটারদের নাগরিকত্ব প্রমাণের বাধ্যতা আরোপ করার ফলে লিগ্যাল ভাবে ভোটাধিকার হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, “প্রায় ১০ % ভোটার বয়সের নাগরিকদের কাছেই পাসপোর্ট বা দেশের নাগরিকত্ব সনদ নেই বা সংগ্রহ করা কঠিন”—এমন একটি ২০২৪-এর জরিপ উদ্ধৃত করা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন বলেছিল এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল ভোটের সুষ্ঠুতা নিশ্চিত করা, যাতে “শুধু আমেরিকান নাগরিকরা ভোটে অংশ নেবেন”-এমন একটি দৃষ্টিভঙ্গা থেকে। তবে আদালতের মতে, এই ধরনের একপাক্ষিক নির্দেশনা সংবিধানভঙ্গ; কারণ রাজ্যগুলো নিজস্বভাবে ভোটার নিবন্ধন ও নির্বাচন সময়সূচি নির্ধারণে সক্ষম এবং কংগ্রেসের অনুমোদন ব্যতীত নির্বাচন সংক্রান্ত বড় পরিবর্তন করা যায় না।
এই রায় নির্বাচিত হয়ে আসছে এমন এক সময়ে যখন যুক্তরাষ্ট্রে ভোটার নিবন্ধন ফর্ম ও ভোটাধিকার-সংশ্লিষ্ট নীতিগুলো রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। বিশেষ করে নিম্নআয়ের, ইমিগ্র্যান্ট ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের মধ্যে ভোটাধিকার সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়ছে। এ রায়ে ওই মানুষদের জন্য একটি নিরাপত্তা বেড়েছে বলেই মানবাধিকার সংস্থাগুলো মনে করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সিদ্ধান্তের অর্থ হলো—ভোটারদের নাগরিকত্ব প্রমাণ বাধ্যতামূলক করা হলে তা ভোটার হ্রাসের কারণ হতে পারে, যা একটি বড় গণতান্ত্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে হুমকিস্বরূপ। আর রাজনীতি-নির্বাচনের ক্ষেত্রে আইনি দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা আরও খোলসা হয়েছে। এছাড়া, এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের নির্বাচনী সংস্কার পরিকল্পনায় বড় ধরণের বাধা তৈরি হয়েছে — কারণ এখন যে অংশ টিকছে না তা হচ্ছে ভোটারদের নিবন্ধকরণ ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ।
উপসংহারে বলা যেতে পারে—এই রায়ে স্পষ্ট হয়ে গেল যে প্রেসিডেন্ট একপক্ষে আদেশ জারি করেও ভোটাধিকার সংক্রান্ত মূল নীতিগুলো বদলে দিতে পারবেন না যদি রাজ্য ও কংগ্রেস এর অনুমোদন না দেয়। ভোটাধিকার, নাগরিক অধিকার ও সংবিধান বাঁচানোর ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। আগামীদিনে এই রায়ের প্রভাব নির্বাচন ব্যবস্থা, ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক আচরণে কেমন প্রতিফলন ঘটাবে তা দেখতে হবে।




