যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী Pete Hegseth এক বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছেন যেখানে তিনি মাদক পাচারকারী কার্টেলগুলোকে “পশ্চিম গোলার্ধের Al‑Qaeda” বলছেন এবং এসব সংগঠনের সঙ্গে তফসিলি যুদ্ধ চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, “এই নরকো‑সন্ত্রাসীরা আমাদের দেশকে বিষ দিয়ে আসছে, আল‑কায়েদার মতোই তাদেরকে ধরা হবে।” হেগসেথ বলেন, “আমরা প্রথমে তাদের নেটওয়ার্ক মেপে, তারপর অনুসরণ করব এবং শেষ পর্যায়ে ধ্বংস করব।” এই বক্তব্যের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে গত কয়েক সপ্তাহে ইউএস নৌবাহিনীর পরিচালনায় মাদকচোরী জাহাজে হামলার ঘটনা, যেখানে চারটি জাহাজে হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন।

2 Nov 2025 | Pic: Collected
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘোষণা রাজনৈতিক ও আইনগতভাবে বিপজ্জনক হতে পারে; কারণ পার্লামেন্ট বা কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এমন ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিতে হলে সংবিধানগত চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়। হেগসেথের মতে, মাদক কার্টেল শুধু অপরাধপ্রবণ গোষ্ঠী নয়, তারা এক ধরনের যুদ্ধকারী শত্রু, এবং তাই তাদের বিরুদ্ধে “যুদ্ধে জয়লাভ” করতে হবে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে সম্ভাব্য প্রভাব ব্যাপক। প্রথমত, মাদক পাচার রুট ও অর্থ উপার্জনের চ্যানেলগুলো কঠোর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। দ্বিতীয়ত, যেসব দেশ বা অঞ্চল মাদক পাচারের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে—তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক, কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়তে পারে। তৃতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে অভিবাসী ও সীমান্তবর্তী সম্প্রদায়ের ওপর নজরদারি ও নিরাপত্তা বিধান জোরদার হতে পারে। বিনা নির্ভরশীল ভূমিকায় সামরিক পদক্ষেপ হলে তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও ন্যায্য যুদ্ধ নীতির দৃষ্টিকোণ থেকেও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
উপসংহারে বলা যায়, হেগসেথের এই মন্তব্য শুধু একটি রাজনৈতিক বক্তৃতা নয়—এটি একটি বড় নীতিগত পরিবর্তনের ঘোষণা। মাদক-পাচারক্ষেত্রকে যুদ্ধক্ষেত্র বানিয়ে ফেলার এই রূপান্তর সামাজিক, আইনগত, রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক পরিসরে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। আগামী সময় দেখাবে, এই রূপকথার মতো ঘোষণাগুলো বাস্তবে কতটা প্রয়োগযোগ্য হয় এবং কেনার পক্ষে কী প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।




