নিউ ইয়র্ক সিটি-র মেয়র নির্বাচনকে সামনে রেখে মুসলিম ভোটারদের মনোবল ও প্রতিক্রিয়া এখন বিশ্লেষকের নজরে পড়ে গেছে। জোহরান মামদানি একজন মুসলিম ও ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট নেতা, যিনি প্রথম মুসলিম মেয়র হওয়ার পথে রয়েছেন, এবং মুসলিম ভোটাররা তাঁর দিকে ভরসা করছেন—তবে সাথে কিছু উদ্বেগও রয়েছে। এই নিউ ইয়র্কের মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রায় ১০ লাখ ভোটার রয়েছেন, যারা গত কয়েক বছর ধরে রাজনৈতিক প্রান্তিকোয় পড়ছেন।
3 Nov 2025 | Pic: Collected
ভোটারদের মধ্যে এমন একটা ধারা গড়ে উঠছে যেখানে তাঁরা শুধুই মুসলিম প্রার্থী দেখে ভোট দিচ্ছেন না—তার পরিবর্তে সামাজিক ন্যায়বিচার, বাসস্থান ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে মনোনয়ন যাচাই করছেন। গ্যাসা এক মুসলিম ভোটার বলেন, “আমি শুধু ভাবিনি, তিনি মুসলিম বলেই ভোট দেব; আমি চাই এমন একজন যিনি আমাদের স্বভাবিক জীবনের কথা শোনেন।” এই মনোভাবের সঙ্গে রয়েছে ঐতিহ্যগত ভয়—যেমন ইসলামোফোবিয়া, প্রতিনিধিত্বহীনতা ও ভয়-ভীতি। মামদানির ক্যাম্পেইন বলছে, তারা শতাধিক মসজিদে সাপ্তাহিক প্রচারণা চালাচ্ছে এবং মুসলিম অঙ্গনের তরুণদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলছেন।
যদিও অনেক মুসলিম ভোটার উদগ্রীব, তবু কিছু অংশ এখনও আশঙ্কিত—মূলত এই কারণে যে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতারা মামদানিকে নিয়ে ইসলামোফোবিক মন্তব্য করেছেন বা তাঁর প্রেক্ষাপটে ভীতি ছড়িয়েছেন। ঠিক এই জায়গায় মুসলিম ভোটাররা বিভক্ত: এক দল মনে করছে—এটা নতুন যুগের সুযোগ যেখানে একজন মুসলিম নেতা হয়ে সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা বলবেন; অন্যা দল ভাবছে—এই প্রচারণা কি শুধু প্রতিশ্রুতি নে, বাস্তব রূপ নেবে কি না, তা দেখার অপেক্ষায়। এক বিশ্লেষক বলছেন, “মামদানি একজন মুসলিম হওয়া হেতু নয়, বরং যেসব বিষয় তিনি তুলে ধরছেন—ভাড়া স্থবিরকরণ, সাশ্রয়ী বাস পরিবহন, সামাজিক নিরাপত্তা—সেই কারণে মুসলিম ভোটাররা তাঁর পাশে দাঁড়াচ্ছেন।”
এক অংশ মুসলিম ভোটার তাঁর ইসলামিক পরিচয়ের কথাও গুরুত্ব দিচ্ছেন—তারা মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা রাজনৈতিকভাবে উপেক্ষিত ছিলেন এবং একটা মুসলিম-প্রধান প্রার্থী তাঁদের জন্য প্রতিনিধিত্বের প্রতীক হতে পারেন। তবে আবার তারা বলছেন, “জনগণের কথা বলুন, শুধু ধর্ম নয়।” ফলস্বরূপ, মামদানির প্রচারণার ভাষা, চিহ্ন এবং কর্মসূচি মুসলিম ভোটারদের মধ্যেও আলোচনায় রয়েছে। সংক্ষেপে, মুসলিম ভোটাররা মামদানিকে কেন্দ্র করে আশাবাদী, একই সঙ্গে সজাগ এবং অপেক্ষায়—কারণ তারা চান, এ নির্বাচন শুধু ব্যক্তিগত নয়, সংগ্রামের প্রতীক হোক।



