খালেদা জিয়া বিএনপি চেয়ারপারসন হিসেবে আগামী নির্বাচনে তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। দল ঘোষণা করেছে তিনি লড়বেন বগুড়া‑৭, দিনাজপুর‑৩ ও ফেনী‑১ থেকে। একই সঙ্গে দল ঘোষণা করেছে তারেক রহমান বগুড়া‑৬ আসন থেকে লড়বেন। এই তথ্য সোমবার (৩ নভেম্বর ২০২৫) বিকালে দলের ঘুর্নিপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঘোষণা করেন।
4 Nov 2025 | Pic: Collected
বগুড়া‑৭, দিনাজপুর‑৩ ও ফেনী‑১–এসব আসন বিএনপির জন্য রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্ববহ। বগুড়া জেলা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত; ফেনী ও দিনাজপুরে দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম শক্তিশালী। খালেদা জিয়া নিজেও আগে বিভিন্ন আসনে জয়ের ইতিহাস রাখছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মনোনয়নের মধ্য দিয়ে বিএনপি একটি ‘স্মার্ট স্ট্র্যাটেজি’ নিয়েছে—যেখানে দলীয় নেতৃত্ব, পরিচিত নাম ও সংগঠিত ভাটার সুযোগ একসঙ্গে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। তার উদ্দেশ্য হচ্ছে ভোটারদের মধ্যে ধারণা তৈরি করা যে নির্বাচন শুধু আসন সংগ্রাম নয়, শক্তি পুনরুদ্ধার ও রাজনীতির পুনরায় আগমন।
এদিকে দলের শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, তিন আসনে খালেদা জিয়ার প্রার্থীতা পরিস্থিতি বদলাতে পারে—কারণ তিনি একাধিক আসন থেকে লড়াই করে দীর্ঘ সময় ধরে আসছেন, এবং এবারের প্রচারণায় স্বশরীর উপস্থিতির পাশাপাশি ঘরোয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন। ইনসাইডাররা বলছেন, তারেক রহমানের সঙ্গে এটি একটি দলীয় যুগান্তকারী সংকেতও হতে পারে—বয়স, অবস্থান ও কার্যকারিতার দৃষ্টিকোণ থেকে।
নির্বাচন কমিশনের তফশীল অনুসারে আগামী বছরের প্রথমার্ধে এই নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে। দল জানিয়েছে যে ২৩৭টি আসনের জন্য প্রার্থী তালিকা ইতিমধ্যেই প্রাথমিকভাবে অনুমোদন করা হয়েছে, যদিও কিছু আসন এখনও ওয়ার্ক-ইন‑প্রগ্রেস।
সংক্ষেপে বলা যায়, খালেদা জিয়ার এই মনোনয়ন মাত্রই রাজনৈতিক রূপকার নয়—এটি দলীয় পুনরূদ্ধার ও নির্বাচনী স্ট্র্যাটেজির নতুন অধ্যায়। ভোটার, রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক সবাই এখন তাকিয়ে আছে—তিন আসনে খালেদার প্রতিদ্বন্দ্বিতা কেমন দেখাবে এবং বগুড়া‑৭, দিনাজপুর‑৩ ও ফেনী‑১–এসব আসনে নির্বাচনচিত্র কি রূপ নেবে।



