কানাডার সরকার এখন এমন আইনসংশোধন আর আদালতের ক্ষমতা চান যার মাধ্যমে একসঙ্গে বড় পরিমাণে অস্থায়ী ভিসা বাতিল করা যাবে—বিশেষ করে ভারতের ও বাংলাদেশের আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে—যদিও সরকার তা শুধু জরুরি অবস্থায় (যেমন মহামারি, যুদ্ধ) প্রয়োগ করার কথা বলেছে। সরকারি অভ্যন্তরীণ নথিতে দেখানো হয়েছে যে, Immigration, Refugees and Citizenship Canada (IRCC) এবং Canada Border Services Agency (CBSA)-র সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার এক টাস্কফোর্স গঠন করেছে, যাতে “দেশভিত্তিক চ্যালেঞ্জ” হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
5 Nov 2025 | Pic: Collected
নতুন পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, একসঙ্গে একটি গ্রুপের অনেক ভিসা বাতিল করার ক্ষমতা থাকবে—যেমন- কোনো দেশ থেকে বিপুল সংখ্যায় ভ্রমণকারী, শিক্ষার্থী বা আবেদনকারী যদি ভিজ্যুয়াল বা তথ্যগত ভুল/প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত হয়। সরকারের প্রকাশ্য বক্তব্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপ মূলত মহামারি, যুদ্ধ অথবা জরুরি পরিবেশনায় নেওয়ার উদ্দেশ্যে; কিন্তু অভ্যন্তরীণ দলিলগুলো দেখায় এর দৃষ্টিতে রয়েছে “নির্দিষ্ট দেশের ভিসা-ধারীদের গ্রুপ” কথাটি।
বিশেষ করে ভারতের শিক্ষার্থী ভিসা আবেদনগুলোর ক্ষেত্রে ভুল তথ্য ও প্রতারণার ঘটনা বেড়ে গেছে—২০২৫ সালের আগস্ট মাসে ভারতের শিক্ষার্থীদের অনুমোদন হার প্রায় ৭৪ % নিয়ে গেছে, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। বাংলাদেশ সম্পর্কিত সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান এখনও সরকারি ভাবে প্রকাশ হয়নি, তবে অভ্যন্তরীণ নথিতে বাংলাদেশের নামও “চ্যালেঞ্জপূর্ণ দেশ” হিসেবে উঠে এসেছে। এ পরিবর্তন শুধু কানাডার অভিবাসন নীতিতেই প্রভাব ফেলছে না, ভারতের স্টাডি-অ্যাব্রড খাতেও আলোচনায় এসেছে—ভবিষ্যতে শিক্ষার্থী-আবেদন এবং অভিবাসন পরিকল্পনায় বড় রূপান্তর হতে পারে। শিক্ষাবিদ ও অভিবাসন আইনজীবীরা উদ্বিগ্ন হয়েছেন যে, গ্রুপ-ভিসা বাতিলের ক্ষমতা যদি প্রয়োগ হয়, তাহলে যথাযথ যাচাই-বিচার ছাড়া অনেক শিক্ষার্থী ও ভ্রমণকারী অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, এই পদক্ষেপ ভারতের কানাডায় স্টুডেন্ট অ্যাকসেস ও মাইগ্রেশন রুটস পুনর্মূল্যায়নের সংকেত দিচ্ছে, কারণ গত কয়েক বছরে ভারতের শিক্ষার্থীদের জন্য কানাডা ছিল অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য।
সামগ্রিকভাবে বলা যায়, এই উদ্যোগ হলো কানাডার অভিবাসন ও ভিসা তদারকিতে কঠোরতার দিকনির্দেশক, যেখানে সরকার বলছে ‘ভিসা ঠেকানো নয়, প্রতারণা প্রতিহত’ করা হচ্ছে—তবে শিক্ষার্থী, অভিবাসী ও ভ্রমণকারীদের জন্য এটি একটি সতর্ক সংকেতও হয়ে উঠেছে। এই অবস্থায়, ভারত ও বাংলাদেশ থেকে কানাডায় যেতে চাওয়া শিক্ষার্থী-ভিসার আবেদনকারীদের আজ থেকে নিজ-দলিল ও তথ্য পরিপূর্ণভাবে প্রস্তুত রাখা এবং নতুন নিয়মকানুন মনোযোগ দিয়ে দেখা জরুরি হয়ে পড়েছে।



