নিউ ইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কস জেলার ক্যাসল হিল অঞ্চলে বুধবার সকালে এক আবাসিক ভবনের এক ফ্ল্যাট থেকে চার জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ, যা এক সম্ভাব্য ট্রিপল মর্ডার-সুইসাইড (তিনজনকে হত্যা করে নিজের বাঁচিয়ে নেওয়া) হিসেবে প্রাথমিকভাবে বিবেচিত হচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে পুলিশকে ফোন আসে এবং তারা ২২২৫ লাকম্ব অ্যাভিনিউ, ক্যাসল হিল হাউসেস এলাকায় অবস্থিত একটি পাঁচতলার ফ্ল্যাটে পৌঁছান। সেখানে ৪৪ বছর বয়সী এক পুরুষ, তার ৭৫ বছর বয়সী মা, ২৬ বছর বয়সী মেয়ে এবং মেয়েটির ২০ বছরের কোঠায় হওয়া প্রেমিক—মোট চার জন—মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
6 Nov 2025 | Pic: Collected
পুলিশ জানিয়েছে, ৪৪ বছরের ওই পুরুষকে সন্দেহ করা হচ্ছে হত্যাকারী হিসেবে; তিনি হয়তো প্রথমে his ১৯৭৫-বছরের মাকে, তারপর ২৬ বছরের মেয়েকে এবং মেয়ের প্রেমিককে গুলি করেছেন, এরপর নিজেও গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনাস্থলে একটি আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় এক প্রতিবেশী জানিয়েছেন, মৃত ৭৫ বছর বয়সী মহিলা “গোল্ডেন গার্ল” নামে পরিচিত ছিলেন—ভূমিকার প্রতি আন্তরিক, সদয় এক মা ও বন্ধু। তাঁর হত্যার খবর জানাজানি হতেই কমিউনিটিতে শোকের ছায়া পড়েছে।
এক সাক্ষী জানিয়েছেন, হত্যাকারীর ছেলে উত্তর ক্যারোলিনায় থাকতেন—ঘটনার দিন সকালে তিনি মোবাইলে একটি ভয়ঙ্কর বার্তা পেয়েছিলেন, “তোমার পরিবারের দিকে নজর দাও”-রকম একটি ভয়ঙ্কর কথোপকথন ছিল। সে কথা পুলিশ তদন্ত করছে।
এই ধরনের করুণ ঘটনা কমিউনিটিতে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অনেকেই বলছেন, “এমন শান্ত আবাসিক এলাকায় এমন ভয়াবহ ঘটনা কেউ কল্পনাও করতে পারিনি।”
পুলিশ এখন ময়নাতদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ, ফ্ল্যাটে উপস্থিত তথ্য ও ঘন-সম্পর্কের সাক্ষীদের ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই করছে- কারও সাথে ঘটনা সংশ্লিষ্ট আছে কি না- তা নির্ধারণ করার জন্য। এখনও পর্যন্ত কোনও গ্রেফতার হয় নি।
এই ঘটনায় নিউ ইয়র্কের পাবলিক হাউজিং সেক্টর ও সামাজিক সহায়তা কাঠামোর দৃষ্টিকোণ থেকেও প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিবেশীরা বলছেন, পরিবারের সদস্যদের মনস্তাত্ত্বিক বা আর্থিক সমস্যার দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন ছিল। যদিও পুলিশ এখনই চূড়ান্ত কারণ ঘোষণা করেনি, তবুও প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এটি একটি সতর্কবার্তা।
সংক্ষেপে বলা যায়, এই ঘটনায় শুধুই চারটি জীবন শেষ হয়নি — এটি পুরো একটি কমিউনিটির উপর ছাপ ফেলেছে, নিরাপত্তা ও সহায়তা নেটওয়ার্কের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং সামাজিক নিরাপত্তা তারকাটিকে উজ্জ্বলভাবে সামনে এনেছে। এখন সময় দেখাবে, এই ঘটনার বাস্তব কারণ কী ছিল—একটি ঘরগৃষ্ট সন্ত্রাস, আত্মহত্যা-আক্রমণ বা অন্য কোনো বহিরাগত কারণ।




