নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র Zohran Mamdani‑র ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, যদিও তিনি মেয়র পদে নির্বাচিত বা নির্বাচিত হতে চলেছেন, তবুও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংবিধানিক মানদণ্ড তিনি পূরণ করেন না। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য একজনকে “natural‑born citizen” থাকতে হবে যা সাধারণভাবে বিবেচিত হয় যে তিনি জন্মগতভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হতে হবে। Mamdani নিজে উগান্ডার ক্যাম্পালাতে জন্মগ্রহণ করেছেন, পরে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং ২০১৮ সালে নাগরিকতা লাভ করেন। এই কারণে, সংবিধান অনুযায়ী, তিনি প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না।
6 Nov 2025 | Pic: Collected
তবে, মামদানি মেয়র বা রাজ্য পরিষদে নির্বাচিত হওয়া‑ই প্রশ্নে কোনো সীমাবদ্ধতা নেই — কারণ যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি দায়িত্বে “natural‑born citizen” প্রয়োজন হয় না। সংবিধানের আর্টিকেল II, সেকশন 1‑এর ক্লজ 5‑এ প্রেসিডেন্টের জন্য তিনটি শর্ত রয়েছে: বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর, যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ১৪ বছর বাস করা থাকতে হবে, এবং জন্মগতভাবে নাগরিক হতে হবে। মামদানির বয়স, বাসস্থান বা স্থানীয় দায়িত্ব নেওয়ার যোগ্যতা এই ক্ষেত্রে সমস্যা নয় তবে ‘জন্মগত নাগরিক’ হওয়া বিষয়টি অতিক্রম করা যায়নি।
আইন‑বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরণের ক্ষেত্রে ভুয়স্পষ্টতা বা সামাজিক ভুল ধারণার সুযোগ বেশি হয়। The Times of India‑র একটি প্রতিবেদন থেকেও দেখা গেছে যে মামদানির ক্ষেত্রে “natural‑born citizen” কী হওয়া উচিত—এহেন বিষয়ে আলোচনা চলছে। এছাড়া The Independent‑এ দেওয়া একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিপাবলিকানদের এক অংশ মামদানির নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং ডিন্যাচারেলাইজেশন (নাগরিকত্ব বাতিল)‑এর দাবিও উঠেছে।
এই ঘটনা শুধু মামদানির ক্ষেত্রে নয়, broader অর্থে আমেরিকার রাজনৈতিক ও আইনগত সংস্কৃতির এক বড় উদাহরণ হয়ে উঠেছে যেখানে বংশ, জন্মস্থান ও নাগরিকত্ব বিষয় আলোচনায় আসে। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, মামদানির ক্ষেত্রে জনগণের মনোভাব, স্থানীয় রাজনীতিতে প্রতিচ্ছবি এবং বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রেক্ষাপট একসাথে কাজ করছে—যাতে মার্কিন রাজনীতির ‘বিভিন্ন বর্ণ ও অভিবাসী’ দৃষ্টিভঙ্গার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে, তাঁর নাগরিকত্ব ও প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্যতা নিয়ে দাবি‑বিরোধও চোখে পড়েছে। হোয়াইট হাউস‑সহ কিছু রিপাবলিকান গোষ্ঠী মামদানিকে “সংসদ ছাড়া নিজেদের বিদেশি উৎসের নেতার মতো” উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব খারিজের দাবি তুলেছেন। যদিও এসব দাবি এখনও আইনগতভাবে প্রমাণিত হয়নি, তবে তা রাজনৈতিক প্রভাব ও বিতর্ক‑ও সৃষ্টি করেছে।



