নিউইয়র্কের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিক ও জনপ্রিয় অ্যাসেম্বলিম্যান জোহরান মামদানি আবারও আলোচনায় এসেছেন মাত্র ৩০ ঘণ্টায় তাঁর নতুন ট্রানজিশন তহবিলে অর্ধ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৫ লাখ মার্কিন ডলার সংগ্রহ করে। এই অর্থ সংগ্রহ তাঁর রাজনৈতিক কর্মযাত্রার নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিউইয়র্কের কুইন্স জেলার প্রতিনিধিত্বকারী এই তরুণ নেতা দীর্ঘদিন ধরে প্রগতিশীল রাজনীতি, সামাজিক ন্যায়বিচার, শ্রমিক অধিকার এবং অভিবাসীদের মর্যাদা রক্ষার জন্য সোচ্চার। এবারও তাঁর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই উদ্যোগে অল্প সময়েই হাজার হাজার মানুষ অনুদান দিয়েছেন, যা আমেরিকান রাজনীতিতে এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
7 Nov 2025 | Pic: Collected
এই তহবিল সংগ্রহের মূল উদ্দেশ্য হলো, নির্বাচনের পর নতুন রাজনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি ও সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা। জোহরান মামদানি বলেছেন, এই অর্থ তাঁর দলের পরবর্তী ক্যাম্পেইন, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, এবং অভিবাসী ও শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষার লড়াইকে আরও জোরদার করতে ব্যয় হবে। তাঁর ভাষায়, “এটি শুধু একটি তহবিল নয়, এটি একটি আন্দোলনের প্রতীক—যেখানে সাধারণ মানুষ রাজনীতির পরিবর্তনের অংশীদার হয়ে উঠেছে।” এই অল্প সময়ের মধ্যে অর্ধ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা তাঁর প্রতি জনগণের আস্থা ও ভালোবাসার স্পষ্ট প্রমাণ।
প্রগতিশীল রাজনৈতিক ধারা ও জনগণের প্রত্যাশা একত্রিত করে তিনি নিউইয়র্ক রাজনীতিতে এক অনন্য অবস্থান গড়ে তুলেছেন। বিশেষ করে অভিবাসী সম্প্রদায়ের অধিকারের জন্য তাঁর নিরলস কাজ তাঁকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে। তিনি প্রায়ই বলেন, রাজনীতি তাঁর কাছে কেবল ক্ষমতার প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি একটি মানবিক দায়িত্ব, যেখানে ন্যায্যতা ও সহমর্মিতাই আসল শক্তি। এই কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ প্রজন্ম, প্রগতিশীল ভোটার এবং দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত নাগরিকরা তাঁর প্রতি গভীর আস্থা রাখে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জোহরান মামদানি এখন শুধু নিউইয়র্ক নয়, সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রের প্রগতিশীল রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মুখ। তাঁর এই তহবিল সংগ্রহ অভিযানের সাফল্য প্রমাণ করেছে যে, সামাজিক ন্যায় ও অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা নেতাদের প্রতি জনগণের আগ্রহ ও সমর্থন কতটা তীব্র। অনেক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, তাঁর এই আর্থিক সাফল্য আগামী নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে এবং এটি প্রগতিশীল রাজনীতির শক্তিকে আরও সুসংগঠিত করবে।
অন্যদিকে, জোহরান মামদানি সবসময় তাঁর রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ও জনসম্পৃক্ততাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিতভাবে জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন, তাঁদের সমস্যা ও পরামর্শ শোনেন, এবং সরাসরি স্থানীয় ইভেন্টে অংশ নেন। তাঁর নেতৃত্বে কুইন্স জেলার সাধারণ মানুষ রাজনীতির নতুন রূপ দেখছে—যেখানে নেতা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ এবং প্রতিটি উদ্যোগে জনগণকে সম্পৃক্ত করা হয়।
মাত্র ৩০ ঘণ্টায় তহবিলের এই বিশাল অঙ্ক সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে মূলত তাঁর ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের কারণে। অনেক দাতাই বলেছেন, তাঁরা এই অর্থ দিয়েছেন কারণ তাঁরা বিশ্বাস করেন, মামদানি রাজনীতিতে সৎ, নীতিবান এবং জনগণের কল্যাণে নিবেদিত একজন প্রকৃত জননেতা। তাঁর এই অর্জন প্রমাণ করে যে, আদর্শ ও নিষ্ঠা থাকলে অর্থনৈতিক বা সাংগঠনিক বাধা কোনো বড় বিষয় নয়।
এই সাফল্য কেবল অর্থ সংগ্রহ নয়, বরং এটি একটি বার্তা—যে আমেরিকান রাজনীতিতেও নীতি, সততা ও জনগণের শক্তি জয়ী হতে পারে। তাঁর এই পদক্ষেপে ইতিমধ্যে মার্কিন রাজনীতির বিভিন্ন স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে। তরুণ প্রজন্ম ও সমাজকর্মীরা মনে করছেন, মামদানি তাঁদের প্রেরণা, কারণ তিনি প্রমাণ করেছেন, রাজনীতি দিয়ে সমাজের কাঠামোগত পরিবর্তন আনা সম্ভব।
জোহরান মামদানি মূলত একজন বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারের সন্তান। তিনি জন্মেছেন উগান্ডায়, পরে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন। তাঁর মা বিখ্যাত লেখিকা ও নাট্যকার মীরা নাইর, যিনি দক্ষিণ এশীয় সংস্কৃতি ও পরিচয়ের প্রতিনিধিত্বে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত। পারিবারিকভাবে সংস্কৃতি ও মানবিকতার চর্চা তাঁর ব্যক্তিত্বে গভীর প্রভাব ফেলেছে। রাজনীতিতে প্রবেশের পর থেকেই তিনি অভিবাসীদের প্রতি বৈষম্য ও সামাজিক অসাম্যের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
বর্তমানে তিনি নিউইয়র্কের ৩৬তম অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধি। তাঁর রাজনৈতিক নীতি ও প্রগতিশীল বক্তব্য তাঁকে শুধু স্থানীয় নয়, জাতীয় পর্যায়েও পরিচিত করেছে। “Housing for All”, “Tax the Rich” এবং “Justice for Immigrants”–এর মতো স্লোগান তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের ভিত্তি তৈরি করেছে। এই তহবিল সংগ্রহ অভিযানের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন, জনগণের আস্থা থাকলে আর্থিক সমর্থনও আসে দ্রুত।
সামাজিক মাধ্যমজুড়ে তাঁর সমর্থকরা এখন এই সফল তহবিল সংগ্রহের খবর ছড়িয়ে দিচ্ছেন। তাঁরা লিখছেন, “জোহরান আমাদের মতো মানুষদের কণ্ঠস্বর। তিনি প্রমাণ করেছেন, জনগণের শক্তিই রাজনীতির আসল চালিকা শক্তি।” তাঁর এই প্রচেষ্টা নতুন প্রজন্মের কাছে রাজনীতিকে মানবিক ও দায়িত্বশীলভাবে দেখার অনুপ্রেরণা দিচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ট্রানজিশন তহবিল কেবল তাঁর ভবিষ্যৎ প্রচারণা নয়, বরং এটি প্রগতিশীল আন্দোলনের একটি আর্থিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। এতে করে তাঁর টিম নতুন উদ্যোগ, নীতি প্রস্তাব ও সামাজিক ক্যাম্পেইন চালাতে পারবে আরও কার্যকরভাবে।
সর্বোপরি, জোহরান মামদানির এই অর্জন কেবল অর্থের পরিমাণে নয়, বরং এটি তাঁর জনপ্রিয়তা, নীতি ও জনগণের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের দৃঢ়তার প্রতিফলন। তিনি আবারও প্রমাণ করলেন—রাজনীতি তখনই সফল হয়, যখন তা জনগণের জন্য, জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে করা হয়।



