নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস রচনা করা Zohran Mamdani সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন যে তাঁর ট্রানজিশন টিম‑এ একজন বিশেষজ্ঞ আইনশিক্ষক নিয়োগ পেয়েছেন — পাকিস্তানি‑আমেরিকান বংশোদ্ভূত Lina Khan। খান, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের Federal Trade Commission (FTC)‑র সাবেক চেয়ারপার্সন এবং বর্তমানে কলাম্বিয়া ল স্কুলে অধ্যাপিকা, ট্রানজিশন টিমের কো‑চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। উক্ত নিয়োগটি মামদানির প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এটি প্রযুক্তি‑বড় কর্পোরেট শক্তি, ভোক্তা অধিকার ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার বিষয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গাকে বহুগুণে সমৃদ্ধ করেছে।
9 Nov 2025 | Pic: Collected
খান এই নিয়োগ নিয়ে বলছেন, “নিউইয়ার্কাররা পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন: এমন একটি শহর গড়ার সময় এসেছে যেখানে শ্রমজীবীরা শুধু জীবিকা চালাতে পারবেন না, বরং এগিয়ে যেতে পারবেন। আমি সম্মানিত বোধ করছি মামদানির সঙ্গে কাজ করতে এবং একটি নতুন ধাঁচের গণতান্ত্রিক শাসন মডেল স্থাপন করতে।” মামদানির মুখপাত্র জানান যে, খান ছাড়াও অন্যান্য অভিজ্ঞ নাগরিক প্রশাসনিক দৃষ্টিতে টিমে যুক্ত হয়েছেন এবং এই দলের মূল উদ্দেশ্য উচ্চ বাজেট ও বৃহৎ দাপ্তরিক প্রশাসনের মধ্যে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও স্বচ্ছতা বাড়ানো।
খান‑এর নির্বাচনের পটভূমি চোখে পড়ার মতো: তিনি বিগ টেক কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে ছিলেন এবং FTC‑র চেয়ারম্যান হিসেবে সংযুক্তরাষ্ট্রে একাধিক বড় একীকরণের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়েছেন; যেমন‑ বড় প্রযুক্তি সংস্থার বাজার আধিপত্য, ভোক্তা‑ঝুঁকি ও “জাঙ্ক ফি”‑র অভিজ্ঞতা। এই অভিজ্ঞতা নিউইয়র্ক জেলা প্রশাসনের পরিপেক্ষিতে প্রযুক্তি‑নিয়ন্ত্রণ, ভোক্তা সুরক্ষা ও নগর অর্থনীতির দিক থেকে অপরিসীম গুরুত্ব বহন করে।
বিশ্লেষকদের মতে, মামদানির প্রশাসন যদি সত্যিকার অর্থে “শ্রমজীবী‑মধ্যমবিত্তের জন্য শহর” গড়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করে, তাহলে আইন, প্রযুক্তি ও প্রশাসনিক সংস্কারের মিশ্রণ প্রয়োজন হবে—এমন ক্ষেত্রে লিনা খান‑এর নিয়োগ ছিল সময়োপযোগী ও চিহ্নযুক্ত।
অবশ্য তাঁর নিয়োগ কিছু প্রতিক্রিয়াও জাগিয়েছে। কিছু প্রযুক্তি খাতের বিশ্লেষক ও কর্পোরেট লবিস্টদের অভিমত, খান‑এর কঠোর নিয়ন্ত্রণমূলক দৃষ্টিভঙ্গা এনওয়াইসি‑র শিল্প ও স্টার্টআপ পরিবেশের জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে। আর কিছু সমালোচক বলছেন, ওয়ার্ক‑মডেল ও নগর প্রশাসনের বাস্তবতা‑ভিত্তিক দক্ষতা শহরের প্রসঙ্গে খান‑এর জন্য পরীক্ষা হবে।
তবে মামদানির পক্ষ থেকে এ পূর্বোক্ত প্রতিক্রিয়া গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে না; কারণ তাঁর নির্বাচনী প্রচারণা থেকেই স্পষ্ট ছিল‑ “যোগ্যতা‑ভিত্তিক নেতৃত্ব, প্রশাসনের প্রতি দায়বদ্ধতা ও সামাজিক অংশগ্রহণ” হবে তাঁর প্রশাসনের মূল ভিত্তি। খান‑কে নিয়োগ দিয়ে তিনি সেই প্রতিশ্রুতিকে عملی রূপ দিতে আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে।
সংক্ষিপ্তভাবে বললে, জোহরান মামদানির প্রশাসনে লিনা খান‑এর নিয়োগ একটি অনেক বড় সংকেত যে নিউইয়র্ক‑র নতুন কর্মকাণ্ড শুধু রাজনৈতিক বদল নয়, বরং প্রযুক্তি‑নিয়ম, ভোক্তা অধিকার ও নগর পরিবর্তনের জন্য একটি নয়া মডেলের দিকে মুখ করেছে। আগামী জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে তাঁর মেয়র পদ, এবং এই নিয়োগ ইতিমধ্যেই একটি নতুন প্রতীক্ষার মুহূর্ত সৃষ্ট করেছে।



