২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর (মঙ্গলবার) রাজধানী ইসলামাবাদ-এর গ-১১ সেক্টরে অবস্থিত একটি জেলা ও সেশনস আদালতের বাইরে একটি আত্মঘাতী বোমা হামলা সংঘটিত হয়। স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের দিকে এক আত্মঘাতী বন্দুকবিহীন গাড়ি বা রিকশা সহ হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়। এই ঘটনায় নিখুঁতভাবে ১২ জন নিহত এবং ২৭ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন বলে দেশীয় নিরাপত্তা সূত্র নিশ্চিত করেছে।
বিস্ফোরণটি এমন এক সময় সংঘটিত হয়, যখন আদালতের সামনে সাধারণ দর্শক, মামলাদার এবং আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। Tehrik‑e‑Taliban Pakistan (টিটিপি) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে এবং আদালত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় নিয়োজিত আইনজীবী, বিচারক ও পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়েও শংকাজনক মন্তব্য করেছে।

12 Nov 2025 | Pic: Collected
আভ্যন্তরীণ মন্ত্রী মোহসিন নাকভি জানান, হামলাকারী প্রথমে আদালতের গেটপাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তবে নিরাপত্তা চেকপয়েন্ট বুধবার তাকে প্রবেশ করতে দেয়নি। শেষ পর্যন্ত তিনি একটি পুলিশ গাড়ির সামনের অংশে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন।
হামলার কারণে আদালতের আশপাশের এলাকা দ্রুত ক্ষেপনভূত হয়। ধ্বংসস্তূপ, আগুন জ্বলছে কিছু গাড়ি ও রিকশা-ফটা জানালা-ভাঙা অবস্থায় ছবি ও ভিডিওতে ধরা পড়েছে। বিপুল আতঙ্কে ভাইরাসের মতো মানুষ নিজে দৌড়াতে থাকেন। একটি আইনজীবী বলেন, “দুটি মৃতদেহ গেটের সামনের দিকে পড়ে ছিল, তার কাছে চার–পাঁচটি গাড়ি আগুনে ভস্ম হয়ে গেছে।”
এই হামলার পর পাকিস্তান সরকার তা “রাষ্ট্রে যুদ্ধ”-র অংশ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, “আজকের আত্মঘাতী হামলা ইসলামাবাদে হয়েছে; এর অর্থ দেশের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা পরিস্থিতির জন্য বিশ্বের কাছে এক ভয়ানক বার্তা।”
উভয় প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের সীমান্তে ইতিমধ্যেই উত্তেজনা বাড়ছে। পাকিস্তান দাবি করেছে, আফগানিস্তান-ভিত্তিক মিলিট্যান্ট গ্রুপ এবং বিদেশি গোষ্ঠীর সঙ্গে এই হামলার সম্পর্ক থাকতে পারে, যদিও নির্ধারিত প্রমাণ এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
এই ঘটনায় পাকিস্তানের রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর মৃদু সন্দেহ এবং প্রশ্ন উঠে এসেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের বড় ধাঁচের হামলা এমন এলাকায় সংঘটিত হওয়া কেবল সন্ত্রাসী কার্যকলাপ নয়—এটি রাজনৈতিক ও সুরক্ষা-চিত্রেও বড় সংকেত।
এদিকে, আহতদের মধ্যে অনেকেই গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। রেসকিউ অপারেশন দ্রুত চালু হয়েছে, তবে এই ধরনের ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় এবং নিরাপত্তাহীনতা বাড়িয়ে দিয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থা এবং ফরেন্সিক টিম বিস্ফোরণস্থলে কাজ করছে।
এই হামলার পর পাকিস্তানি সমাজ ও রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে—কিভাবে রাজধানীর কেন্দ্রীয় এলাকায় এত সহজেই হামলা হয় এবং নিরাপত্তা চেকপয়েন্টগুলো কীভাবে এ-পর্যায়ে ব্যাহত হয়েছে? গতকালের ঘটনার পর এক প্রশ্ন হলো: “যদি ইসলামাবাদে নিরাপত্তা দুর্বল হয়, তাহলে কোথায় নেই?” কাছাকাছি এক বিশ্লেষক বলছেন, “ইসলামাবাদ হল এমন এক পরীক্ষা-স্থান যেখানে সন্ত্রাসীরা নিজেদের শক্তি পরীক্ষা করে। এখানে হামলা মানে সত্যিই বড় বিপর্যয়।”
সংক্ষেপে, ১১ নভেম্বরের এই আত্মঘাতী বোমা হামলা শুধু প্রাণহানির ঘটনা নয়—এটি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা, বিচারব্যবস্থা-র কাছে জনসাধারণের রক্ষার পারদর্শিতা এবং মিলিট্যান্ট হুমকির মধ্য দিয়ে জাতির সামনে এক বড় চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে। দ্রুত তদন্ত, কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সহায়তা এখন সবচেয়ে জরুরি।




