যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনায় সর্বশেষ খবর হলো, তারা গাজা সীমান্ত সংলগ্ন ইসরায়েল ভূখণ্ডে একটি বড় সেনা ঘাঁটি স্থাপনের প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে চলেছে, যা অনুসন্ধান করা তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার বাজেটে নির্মিত হতে পারে এবং হাজারও সেনা নিয়োজিত থাকবে বলেও সূত্র মিলেছে। খবর অনুযায়ী, ঘাঁটি স্থাপনের উদ্দেশ্য হবে গাজা অঞ্চলে যুদ্ধবিধ্বস্ত পরবর্তী শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় আন্তর্জাতিক বাহিনীর কার্যক্রমকে সহায়তা করা, এবং সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলকে নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণে রাখা। ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম যেমন Yedioth Ahronoth ও Shomrim-র মতে, চূড়ান্ত জায়গা এখনো নির্ধারিত হয়নি, তবে সম্ভাব্য সাইটগুলো নিয়ে জরুরি জরিপ চলছে।

12 Nov 2025 | Pic: Collected
তবে যুক্তরাষ্ট্র আগামি ঘোষণা দিয়ে বলেছে, “গাজায় কোনো মার্কিন পায়ে পড়বেনা” – অর্থাৎ ঘাঁটিটি হয়তো ইসরায়েলি ভূখণ্ডে হবে, গাজার ভিতরে নয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি শুধু সামরিক ঘাঁটি নয় — এটি একটি রাজনীতি ও কৌশলগত সংকেত যেটি যুক্তরাষ্ট্র গাজা-ইসরায়েল সংঘর্ষ ও মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতায় তার ভূমিকা আরও বাড়াতে চাইছে। এই উদ্যোগকে কেউ رؤية (রূপক) হিসেবে দেখছেন যে, গাজা পরবর্তী সময় ‘আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী’ বা International Stabilization Force (ISF) গঠন ও নিয়ন্ত্রণের অংশ হতে পারে, যেখানে মার্কিন নেতৃত্বে কয়েকটি দেশ মিলে কাজ করবে।
তবে একই সঙ্গে বিষয় রয়েছে যে, এই পরিকল্পনায় যদি সফল হয়, তাহলে গাজা সীমানায় নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারিতে ইসরায়েলের ভূমিকা হয়তো কমে যাবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের উপস্থিতি বাড়বে, যা মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এমন একটি সেনা ঘাঁটি যদি গাজা-ইসরায়েল সীমান্তে স্থাপন হয়, তাহলে এটি শুধু যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে পুনর্গঠন ও সুরক্ষা বাবেই হবে না, বরং মিত্র ও প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর জন্য একটি শক্তিশালী রণনীতি হয়ে উঠতে পারে।
এই সংবাদ সামনে আসার পর থেকেই ইসরায়েলি, আমেরিকান এবং মধ্যপ্রাচ্য-উল্কাসংক্রান্ত বিশ্লেষক মহল দুইপ্রহরে একাধিক প্রশ্ন তুলছে — ঘাঁটিটির প্রকৃত কার্যকারিতা কী হবে, কখন নির্মাণ শুরু হবে, কোথায় হবে, এবং স্থানীয় জনসাধারণ ও প্রতিবেশী দেশের对此 প্রতিক্রিয়া কীরূপ হবে। সামরিক তথ্যপত্র বলছে, গাজায় যুদ্ধের পরবর্তী ধাপ হিসেবে জরুরি নিরাপত্তা ও পুনর্গঠনের প্রয়োজন রয়েছে, এবং এর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে U.S. Central Command (CENTCOM) ও অন্যান্য মিত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় বাড়াচ্ছে। তবে কিছু বিশ্লেষক যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিকল্পনাকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতি ও হস্তক্ষেপের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন, যারা বলছেন — “শান্তির নামে হতে পারে নতুন সামরিক নিয়ন্ত্রণ।” এক কথায়, গাজা সীমান্তে যুক্তরাষ্ট্রের বড় সেনা ঘাঁটি বানানোর এই প্রস্তাব যেন মধ্যপ্রাচ্যে নতুন পালাবদলের সূচনা, যা শুধু ভূখণ্ডই নয়, কূটনীতি ও নিরাপত্তার পরিমণ্ডলেও এক বড় সাড়া ফেলবে।




