ঢাকা মহানগরী এখন তীব্র নিরাপত্তা বন্দোবস্তে আচ্ছাদিত, কারণ অদূর ভবিষ্যতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার সংক্রান্ত রায় ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে।আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরো শহরকে কড়া নজরদারিতে রেখেছে, বিশেষ করে সাম্প্রতিক সহিংসতা এবং **আওয়ামী লীগের (AL) ঘোষণা করা ‘লকডাউন প্রোগ্রাম’**কে কেন্দ্র করে। রাজধানীর প্রধান সড়ক ও মুখ্য চওড়া রাস্তার চেকপোস্টগুলোতে পুলিশ স্থাপন করা হয়েছে। সেনাবাহিনী, সীমান্তরক্ষা বাহিনী (BGB) এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (RAB) নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দায়িত্ব পালন করছে।

13 Nov 2025 | Pic: Collected
এই পরিস্থিতিতে ঢাকা শহরের রাস্তাঘাটে যানবাহনের সংখ্যা কমে গেছে এবং মেট্রোরেলের যাত্রীসংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কম দেখা গেছে। পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ তালেবুর রহমান জানিয়েছেন, শহরের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সামনে পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সাম্প্রতিক সহিংসতা, যেখানে সোমবার এবং গতকাল অন্তত ১৭টি ক্রুড বোমা বিস্ফোরণ এবং নয়টি গাড়ি আগুনে ধ্বংসের ঘটনা ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার গাজীপুর ও আশুলিয়ার আশেপাশে চারটি বাসও আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এর পাশাপাশি, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অফ বাংলাদেশ (CAAB) সব বিমানবন্দরকে বিশেষ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে, যাতে টার্মিনাল এবং প্রবেশ পথগুলোতে আরও নজরদারি বৃদ্ধি পায়। পুলিশ সদর দফতর সব থানাকে নির্দেশ দিয়েছে, আগামীকাল AL-এর ঘোষিত প্রোগ্রামের সময় নিরাপত্তা চরমে নিয়ে যাওয়া হবে।
এই প্রস্তুতি প্রমাণ করছে যে রাজধানীকে রাজনৈতিক ও জনসংখ্যাগত উত্থান-পতনের জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নাগরিকরা এই অবস্থাকে কেন্দ্র করে সচেতন রয়েছে এবং প্রশাসনও সচেতনভাবে জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। এমন সময়ে রাজধানীর সড়ক ও পরিবহন ব্যবস্থা সীমিত হচ্ছে, যা সাময়িকভাবে সাধারণ জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর না হলে অপ্রত্যাশিত সহিংসতা ঘটার সম্ভাবনা থাকে। সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাই নগরীকে নিরাপদ রাখার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।




