জার্মানিতে ঘোষণা করা হয়েছে যে তারা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে, বিশেষ করে গাজা স্ট্রিপ ও পশ্চিম তীর এলাকায়, একটি নতুন পুলিশ মিশনে অংশগ্রহণ করবে যেখানে প্রথম ধাপে কয়েকজন “নিরস্ত্র” জার্মান পুলিশ অফিসার নিয়োজিত হবেন। এই মিশনের অধীনে জার্মান Innenminister Alexander Dobrindt বলেছেন, “একটি কার্যকর পুলিশ বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির জন্য অপরিহার্য”। একই সঙ্গে, রায়টার্স জানিয়েছে যে European Union-র নাগরিক মিশনে অংশ নিতে জার্মান সরকারের ক্যাবিনেট ইতিমধ্যে “সিদ্ধান্তমূলক অনুমোদন” দিয়েছে, যেখানে সীমান্তরক্ষার কাজ করা হবে যেমন: গাজা–মিশর সীমান্ত রাফাহ ক্রসিং।

13 Nov 2025 | Pic: Collected
ইতিমধ্যে সংবাদ প্রকাশ করেছে যে জার্মান পুলিশ টিম প্রাথমিকভাবে চারজন নিয়ে গঠন করা হয়েছে এবং তারা কয়েক সপ্তাহ আগেই ভূখণ্ডে পৌঁছেছে। এই পুলিশ সদস্যরা মূলত ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা বাহিনী ও স্থানীয় পুলিস পুনর্গঠনের কাজে সহায়তা করবেন, নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা প্রবাহকে সমন্বিত করার দায়িত্ব থাকবে। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অনেক দেশ ও বিশ্লেষক উদ্বিগ্ন যে এটি যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বিদেশি নিরাপত্তা হস্তক্ষেপের নতুন ধারা সৃষ্টি করে কি না, এবং তা কি ক্রমেই রাজনৈতিক ও সামরিক নিয়ন্ত্রণাধীন হয়ে উঠছে।
বিশেষ করে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ও ফিলিস্তিনি স্বায়ত্তশাসন বল এমন উদ্যোগকে কীভাবে দেখছে—এ প্রশ্ন এখন ঘুরছে। আরো একটি জটিলতা হলো, এই মিশনের অধীনে বাস্তব নিয়োগ কী হবে, কতজন পুলিশ যাবে, কোথায় অবস্থান হবে, তহবিল ও সময়রেখা কী থাকবে—এসব এখনও স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। রাফাহ ও পশ্চিম তীর অঞ্চলে ইতিমধ্যে সীমান্ত প্রবেশ ও ত্রাণ সাপ্লাই নিয়ন্ত্রণ কঠিন; নতুন বিদেশি পুলিশ কর্মসূচি সেই পরিপ্রেক্ষিতে সরকার-সংস্থা-সামরিক মডেলের প্রতি নতুন চিত্র আনতে পারে।
ফিলিস্তিনি মানুষ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গ্রুপ এবং মধ্যপ্রাচ্য পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই ধরণের মিশন শুধু নিরাপত্তা নয়, রাজনৈতিক পুনর্গঠন ও কূটনৈতিক শক্তির প্রতীক হয়ে উঠতে পারে। জার্মানির ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গার পাশাপাশি কার্যকর স্বায়ত্তশাসন ও স্থানীয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে কি না—তাও থাকছে বড় প্রশ্ন। এই নতুন নিরাপত্তা উদ্যোগটি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির জন্য যেসব কাঠামো ইতিমধ্যে গড়ে উঠেছিল তা পরীক্ষা করার সুযোগ এনে দিচ্ছে।




