যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে চলা সরকারি ‘শাটডাউন’-এর অবসান ঘটেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে। বুধবার (১২ নভেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ওয়াশিংটন ডিসির ওভাল অফিসে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়া বাজেট চুক্তিতে তিনি স্বাক্ষর করেন। এর মাধ্যমে ৪৩ দিন ধরে চলা প্রশাসনিক অচলাবস্থার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। বিবিসি ও রয়টার্স জানিয়েছে, প্রতিনিধি পরিষদে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ২২২ জন সদস্য প্রস্তাবটির পক্ষে এবং ২০৯ জন বিপক্ষে ভোট দেন। সেখানে ছয়জন ডেমোক্র্যাট সদস্য রিপাবলিকানদের সঙ্গে যোগ দিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ায় প্রস্তাবটি সহজেই পাস হয়।

13 Nov 2025 | Pic: Collected
এর আগে সোমবার সিনেটে সরকার পুনরায় চালুর প্রস্তাবটি অনুমোদন পায়, যা পরে প্রতিনিধি পরিষদেও পাস হয়ে প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠানো হয়। ট্রাম্প প্রস্তাবে স্বাক্ষর করার প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যেই হোয়াইট হাউস জানায়, দেশের বন্ধ থাকা বিভিন্ন সরকারি সেবা ধীরে ধীরে আবার চালু করা হবে। এই শাটডাউনের কারণে প্রভাব পড়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৬৭০,০০০ ফেডারেল কর্মীর ওপর—অনেকেই বেতন ছাড়াই কাজ করেছেন, আবার অনেককে বাধ্য হয়ে বিনা বেতনে ছুটিতে থাকতে হয়েছে।/
তাদের আটকে থাকা বেতন বৃহস্পতিবার থেকেই ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। শাটডাউনের সময় ফেডারেল অফিস, জাতীয় উদ্যান, এবং বিমান নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম ব্যাহত হয়; অনেক বিমানবন্দরে কর্মীসংকট দেখা দেয় এবং সামাজিক সহায়তা কর্মসূচিও বন্ধ হয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমি জনগণের কষ্ট বুঝি, তাই এই শাটডাউন শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের দেশ একসঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে।” হোয়াইট হাউস মুখপাত্র জানিয়েছেন, সরকার পুনরায় চালুর মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি (SNAP), স্বাস্থ্যসেবা, এবং বেতন বিতরণ কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। তবে এখনো আশঙ্কা রয়েছে, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব পুনরায় তীব্র হতে পারে, কারণ বাজেট বরাদ্দ ও অভিবাসন নীতির বিষয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে মতপার্থক্য বহাল রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ৪৩ দিনের শাটডাউন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে কয়েক বিলিয়ন ডলার ক্ষতি করেছে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তারা সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতে এমন প্রশাসনিক অচলাবস্থা পুনরাবৃত্তি হলে দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা আরও বিপন্ন হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকরাও এই দীর্ঘ অচলাবস্থায় হতাশা প্রকাশ করেছেন—অনেকে বলেছেন, “আমরা সরকারের অচলাবস্থা নয়, স্থিতিশীলতা চাই।” এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলেছে, এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রশাসনিক স্থবিরতা, যা রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে শেষ হওয়ায় জনগণ আপাতত স্বস্তি পেয়েছে।




