বিহারের নির্বাচন ২০২৫-এ একটি নতুন ইতিহাস গড়েছেন ২৫ বছর বয়সী শাস্ত্রীয় ও লোকগীতি শিল্পী মৈথিলী ঠাকুর। তিনি ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) থেকে আলিনগর আসনের বিধানসভা নির্বাচনপ্রার্থী হিসেবে লড়াই করছিলেন এবং তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা সঙ্গীতজীবনকে কেন্দ্র করে তুমুল সাড়া ফেলেছে। নির্বাচনের ফলাফলে মৈথিলী ঠাকুর এই আসন জিতে নেন, এবং তিনি বিহারের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী বিধায়ক (MLA) হিসেবে স্বীকৃতি পান।

16 Nov 2025 | Pic: Collected
মৈথিলী ঠাকুরের জন্ম ২৫ জুলাই ২০০০-এ বিহারের মধুবনিতে। তাঁর বাবা রামেশ ঠাকুর এবং দাদা দু’জনেই সংগীতজ্ঞ ছিলেন, যারা তাঁকে শাস্ত্রীয় গান এবং লোকগানের প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন। ছোটবেলা থেকেই মৈথিলীর কণ্ঠে দক্ষিণ বঙ্গের মৈথিলী ও বোঝপুরি সুর বাজতে শুরু করে; তাঁর ইউটিউব ও ফেসবুক-ক্লিপগুলো দেশজুড়ে জনপ্রিয়তা পায়।
সঙ্গীতজীবনে মৈথিলী সাধারণত আত্মপ্রকাশ করেন রিয়েলিটি শোতে: ২০১৭-এ তিনি “Rising Star”-এ রানার-আপ হন। যদিও আগে তাকে কিছু জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো — যেমন “Sa Re Ga Ma Pa Li’l Champs” এবং “Indian Idol Junior” — এ বাদ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু মৈথিলীর প্রতিভা সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
রাজনীতির মঞ্চে তাঁর পদক্ষেপ অপ্রত্যাশিত ছিল, কিন্তু শক্তিশালী: বছরের শুরুতে তিনি বিজেপি-তে নাম লেখান।) এরপর তিনি আলিনগর থেকে প্রার্থী হন, যেখানে ভোটগণনা চলাকালের খবর হিসেবে জানা যায়, তিনি आर.जেডी (RJD) প্রার্থী বিনোদ মিশ্রকে কয়েক হাজার ভোটে পরাস্ত করছেন। তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় পরিবারের সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছিল — মৈথিলীর ভাইরা প্রচারণার সভায় লোকগান গাওয়ার পাশাপাশি তাঁর সাংস্কৃতিক সম্পর্ক ও জনগণের সঙ্গে সংযোগ গড়তে সাহায্য করেছিলেন। ([turn0search5]turn0search9])
জয়ের পর মৈথিলী ঠাকুর বলেন, “এটা আমার জন্য স্বপ্নের মতো”। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে তাঁর রাজনৈতিক কাজ হবে তাঁর সাংস্কৃতিক শিকড়ের প্রতিফলন: মৈথিলার চিত্রকলা ও পার্থিব ঐতিহ্য, বিশেষ করে মিঠিলা পেইন্টিং (Madhubani পেইন্টিং) এবং যুব ও নারী শিক্ষার উন্নয়নে তিনি কাজ করবেন।
সংগীত ও রাজনীতির মিলনে মৈথিলী নিজেদের একটি নতুন পরিচিতি তৈরি করছেন — তাঁর যাত্রা শুধু সঙ্গীতপ্রেমীদের জন্য প্রেরণা দিচ্ছে না, বরং বাইরের রাজনীতিতে নতুন তরুণ নেতৃত্বের আগমনকে প্রতিফলিত করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নির্বাচন মৈথিলী ঠাকুরের মতো সাংস্কৃতিক প্রতিভাধরকে ভোটাররা শুধু শিল্পী হিসেবে নয়, কিছু পরিবর্তন আনতে পারে এমন নেতা হিসেবে গণ্য করছেন।




