জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের (OHCHR) কার্যালয় থেকে এসেছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড রায়-এর ওপর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়া। প্রেসিডেন্ট রায়ে বিশ্বব্যাপী সমালোচনা ও উদ্বেগ ছড়াতে শুরু করেছে, এবং জাতিসংঘ বলেছে, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত যা গত বছরের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময়ে যারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন তাদের জন্য বিচার ও প্রতিকার দিকে এক শক্তিশালী বার্তা পাঠায়।

18 Nov 2025 | Pic: Collected
ওএইচসিএইচআর-এর মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি জেনেভা থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলেন, “ঢাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রায় দেওয়া হয়েছে — এটি মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দোষীদের জবাবদিহিতার এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।”
তবে, জাতিসংঘ পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয়। তারা বলেছে, যদিও তারা সরাসরি বিচারকার্য পর্যবেক্ষণ করেনি, কিন্তু এমন একটি দায়বোধপূর্ন প্রক্রিয়া আশা করেছিল যেখানে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ন্যায়বিচার হবে। শামদাসানি উল্লেখ করেছেন, “দোষীদের মধ্যে যারা নেতৃত্বে ছিল, তাদের আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও জবাবদিহি করা উচিত ছিল।”
একটি বড় উদ্বেগ হলো মৃত্যুদণ্ড। জাতিসংঘ স্পষ্টভাবে বলেছে যে, তারা “সব পরিস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ডের বিরোধী” — এবং এই রায়ের ক্ষেত্রে তাদের দুঃখ প্রকাশ করেছে। তারা মনে করে, দণ্ডপ্রদান এমন একটি ক্ষেত্রে যেখানে অপরাধের মর্যাদা অত্যন্ত গুরুতর হলেও, মৃত্যুদণ্ডকে ব্যবহার করা আটকে রাখা উচিত ছিল, বিশেষত যখন দোষীর অনুপস্থিতিতে বিচার করা হয়েছে।
জাতিসংঘের মতে, এই রায় শুধু শাস্তি নয় — এটি ভুক্তভোগীদের জন্য প্রতিকার এবং পুনরায় নিরাপত্তা গঠনের পথ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। শামদাসানি যোগ করেছেন, “ভুক্তভোগীদের কার্যকর প্রতিকার এবং ক্ষতিপূরণের সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি, এবং ন্যায়সঙ্গত ও রূপান্তরমূলক নিরাপত্তা খাত সংস্কার অপরিহার্য, যাতে অতীতের লঙ্ঘন পুনরায় না ঘটে।”
তারা আরও আহ্বান জানিয়েছে — পরিবার, ভুক্তভোগীরা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষদের মধ্যে সংযম বজায় রাখতে। “সত্য উদ্ঘাটন, ন্যায়বিচার এবং পুনর্মিলন একই পথে যেতে হবে,” বলেছে OHCHR।
নিশ্চয়ই, এই প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এটি একটি আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা পরীক্ষা করার সুযোগ হিসেবে ধরা হচ্ছে — এবং প্রশ্ন তুলেছে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা কেমন প্রতিফলন পাবে যখন পুনর্গঠন বা সংস্কার বিষয়গুলো সামনে আসবে।




